রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

পবায় পয়ঃনিষ্কাশনের পাইপ লাইন বসানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ১৫

WP Import ০১ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৩২ অপরাহ্ন
WP Import ০১ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৩২ অপরাহ্ন
পবায় পয়ঃনিষ্কাশনের পাইপ লাইন বসানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ১৫
পবায় পয়ঃনিষ্কাশনের পাইপ লাইন বসানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীর পবা উপজেলার শাহমখদুম থানাধীন ডাংগিপাড়া এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য পাইপ লাইন বসানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১ অক্টোবর) সকালে আল-জামি’আহ আস-সালাফিয়্যাহ মাদ্রাসা সংলগ্ন জমিতে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন, রফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, সেরাজুল ইসলাম, মেরাজ উদ্দিন, নূর সালেহ, সাজেদা বেগম, মো. আজগর আলী (৬৪), শওগত আলী (৪৫), সবুজ ইসলাম (৪০), ফায়সাল হোসেন (২৮), আজিম উদ্দিন (২৩), দেলোয়ার হোসেন (৪৭), শারামন বেগম (৫৫) ও সোনারুল ইসলাম (৪০)। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের মাথা ও বুকে আঘাত গুরুতর। সাজেদা বেগমের পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগেছে।

ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, সেরাজুল ইসলাম ও মেরাজ উদ্দিন জানান, তাদের নতুন নির্মিত বাড়ির পয়ঃনিষ্কাশনের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা ছিল না। তাই স্থানীয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে মঙ্গলবার মাদ্রাসার সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে মাটির নিচ দিয়ে পাইপ লাইন বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। বুধবার সকালে তারা কাজ শুরু করলে মাদ্রাসার নাইটগার্ড সাজ্জাদ ও তার আত্মীয়রা বাধা দেন।
তাদের অভিযোগ, পূর্বের পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং দেনা-পাওনার জেরে সাজ্জাদ ও তার সহযোগীরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আকস্মিক হামলা চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাদের আগে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বলে।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আশরাফুল বলেন, “ভুক্তভোগী পক্ষের লোকজন একতরফা অভিযোগ করছেন। মূলত তারা অনুমতি ছাড়াই সাজ্জাদের জমির ভেতর দিয়ে পাইপ বসানোর চেষ্টা করছিলেন। এতে বাঁধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। আমাদের পক্ষের আজগর আলী ও শওকত আলীও গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মোল্লা ফাউন্ডেশনের মালিকানাধীন জমির উপর দিয়ে জোরপূর্বক পাইপ বসানোর চেষ্টা চলছিল। এই পাইপ লাইনটি একটি প্রতিষ্ঠানের ড্রেনের সাথে যুক্ত হয়ে বারনই নদীতে গিয়ে মিশবে। এতে পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা রয়েছে। তারা আরও দাবি করেন, ঘটনাস্থলে বহিরাগত কয়েকজনও এসে মারধর ও দোকানপাট ভাঙচুর করেন।

আল-জামি’আহ আস-সালাফিয়্যাহ মাদ্রাসার ম্যানেজার ফরিদ বলেন, “মেরাজ ও সেরাজুল আমাকে এবং মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে অনুরোধ করেছিলেন তাদের বাড়ির পাইপ লাইন যেন মাদ্রাসার ট্যাংকির সাথে যুক্ত করা যায়। আমরা অনুমতি দিয়েছিলাম। তবে পাইপ লাইনের একটি অংশ সাজ্জাদের জমির উপর দিয়ে যাওয়ায় বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।”
শাহমখদুম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাছুমা মুস্তারী বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমাদের একজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উভয় পক্ষের একাধিক ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তারা চাইলে অভিযোগ বা মামলা করতে পারবেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।