রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

সারের কৃত্রিম সংকট, বেশি দামে কিনছেন কৃষকরা

WP Import ০১ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
WP Import ০১ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
সারের কৃত্রিম সংকট, বেশি দামে কিনছেন কৃষকরা
সারের কৃত্রিম সংকট, বেশি দামে কিনছেন কৃষকরা

তানোর উপজেলার কলমা বাজারে এক পরিবেশকের গুদামের ডিএপি সারের মজুত।

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে সরকার নির্ধারিত ডিলারদের কাছে পাওয়া যাচ্ছে না সার। কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে ঘুরেও আসছেন। যদিও কৃষি বিভাগের দাবি, ডিএপির পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদা বাড়ায় এই সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। কিছু ডিলারদের কাছে পাওয়া গেলেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

রাজশাহীতে বিভিন্ন খুচরা দোকানে ‘বাংলা ডিএপি’ সার ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেসরকারিভাবে আমদানি করা ‘ডিকে ব্রান্ডের’ ডিএপি ১ হাজার ৭০০ টাকা এবং বিএডিসির সার ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা বস্তা হিসাবে চাষিরা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ যেকোনো ধরনের ডিএপি সারের নির্ধারিত মূল্য প্রতিবস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা।
কৃষকরা বলেন, তদারকির অভাবে এই সার চলে যাচ্ছে খুচরা বিক্রেতা ও কীটনাশক বিক্রির দোকানে। সেখান থেকেই চাষিদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পরিবেশকদের কাছে সার থাকলেও প্রান্তিক চাষিদের কাছে তা বিক্রি করা হচ্ছে না। সরবরাহ শেষ দাবি করে আগামী মাসে যোগাযোগ করতে বলছেন পরিবেশকেরা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখার বরাদ্দপত্র থেকে জানা গেছে, রাজশাহী জেলার জন্য সেপ্টেম্বর মাসের ডিএপি সারের চাহিদা ছিল ২ হাজার ৫২১ মেট্রিক টন। গত ১৮ আগস্ট সমপরিমাণ সার বরাদ্দ করা হয়েছে। ওই চিঠিতে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষক পর্যায়ে সার বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য বলা হয়।

চারঘাট উপজেলার ভায়া লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের চকলক্ষ্মীপুরে আকাশ এন্টারপ্রাইজ নামের এক পরিবেশকের গুদামে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২০ বস্তা ডিএপি সার রয়েছে। কর্মচারী রনি হোসাইন বলেন, তাদের গুদামে চলতি মাসে ২৭০ বস্তার মধ্যে আর ২০ বস্তা আছে। কৃষকদের উৎসাহিত করা হয়েছে টিএসপির পরিবর্তে ডিএপি ব্যবহার করার জন্য। সেই জন্য ডিএপির চাহিদা বেড়ে গেছে। এখন যার যতটুকু প্রয়োজন, আর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

জেলার মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি গ্রামের পানচাষি আফসার আলী তার বরজে ব্যবহারের জন্য এক বস্তা বাংলা ডিএপি সার কিনেছেন। তিনি বলেন, গ্রামের একজন খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা বস্তা দরে সার নিয়েছেন।

তানোর উপজেলার কলমা ইউনিয়নের বিএডিসির পরিবেশক সুলতান আহমেদ। তার দোকান দেখাশোনা করেন ছেলে সাখাওয়াত হোসেন। ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে একজন কৃষক ডিএপি সারের জন্য যোগাযোগ করলে সাখাওয়াত হোসেন তাকে বলেছেন, এখন ইউরিয়া ছাড়া আর কোনো সার নেই।
খুচরা দোকানে ‘বাংলা ডিএপি’ সার ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেসরকারিভাবে আমদানি করা ‘ডিকে ব্রান্ডের’ ডিএপি ১ হাজার ৭০০ টাকা এবং বিএডিসির সার ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা বস্তা হিসাবে চাষিরা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

ওই দিন সন্ধ্যায় তানোরের কলমা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সাখাওয়াত হোসেনের দোকান বন্ধ। ফোন করা হলে বাড়ি থেকে আসেন। ডিএপি সার আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার দোকানে সব ধরনের সারই আছে। দেখতে চাইলে তিনি গুদাম খোলেন। ভেতরে ডিএপি সার পাওয়া যায়। সাখাওয়াত জানান, সেপ্টেম্বর মাসের জন্য তিনি মোট ২৬ মেট্রিক টন ডিএপি সার বরাদ্দ পেয়েছিলেন, যার সাড়ে ১২ মেট্রিক টন এখনো মজুত রয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক উম্মে সালমা বলেন, কোথাও বেশি দামে সার বিক্রি করার সুযোগ নেই। তাদের সব ধরনের সার পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, কোথাও কেউ সার না পেলে বা বেশি দাম চাইলে তারা সরাসরি কৃষি অফিসে অভিযোগ করবেন, তা না করে কেন সাংবাদিকের কাছে যাচ্ছেন? এটা কি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত?