সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

বাঘার কালিদাসখালী ঘাটে বিক্রি হচ্ছে পদ্মার মাছ

WP Import ০১ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ০১ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন
বাঘার কালিদাসখালী ঘাটে বিক্রি হচ্ছে পদ্মার মাছ
বাঘার কালিদাসখালী ঘাটে বিক্রি হচ্ছে পদ্মার মাছ

বাঘা প্রতিনিধি:


রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মা নদীর কালিদাসখালী ঘাট। এই হাটে প্রতিদিন জেলেরা পদ্মা নদী থেকে মাছ ধরে এনে এই হাটে বিক্রি করেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ ক্রয় করতে এই হাটে আসেন ব্যাপারীরা।
জানা গেছে, মূল ভূখ- থেকে বিচ্ছিন্ন নদীবেষ্টিত উপজেলার পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে ১৫টি চর রয়েছে। এই চরে জনসংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। উপজেলায় ২৬ কিলোমিটার এলাকা পদ্মা নদী রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ কিলোমিটার চকরাজাপুর ইউনিয়নের মধ্যে জেলে রয়েছে ৩৭০ জন। তারা ভাঙনগ্রস্ত ও সহায়সম্বলহীন মানুষ। তারা চরে অবস্থান করে। তবে কিছু কিছু চরে স্থায়ী জনবসতি গড়ে উঠেছে।

আবার কিছু কিছু চরে অস্থায়ী বসতি রয়েছে। জেলেরা সারারাত মাছ শিকার করে সকালে কালিদাসখালী পদ্মা নদীর ঘাটে বিক্রি করতে আসে। এই মাছ ক্রয় করতে আসেন ঈশ্বরদী, লালপুর, কুষ্টিয়ার ব্যাপারীরা।
এ বিষয়ে কালিদাসখালী চরের জেলে ওয়ালিউর রহমান বলেন, আমি প্রতিদিন পদ্মা নদীতে মাছ শিকার করি। সকালে কালিদাসখালী পদ্মা নদীর ঘাটে বিক্রি করি। এই মাছ বিক্রি করতে কোনো অসুবিধা হয় না। বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপারী এসে মাছ ক্রয় করে নিয়ে যায়। মাছ ধরায় আমার মূল পেশা। এই পেশাতে আমার ৬ সদস্যের সংসার চলে।

ঈশ্বরদী থেকে মাছ ক্রয় করতে আসা ব্যাপারী আমিরুল ইসলাম বলেন, জেলেরা সারারাত মাছ ধরে প্রতিদিন সকালে এই ঘাটে বিক্রি করতে আসেন। এই মাছ ক্রয় করে ঈশ্বরদীতে নিয়ে যায়। পদ্মা নদীর মাছের প্রচুর চাহিদা। সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত চলে এই হাট। তবে এই হাট দুই ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়।

মাছ বিক্রি করতে আসা চৌমাদিয়া চরের জেলে জয়নুল হোসেন বলেন, আমি ও আমার ছেলে মিলে মঙ্গবার ৫ কেজি চিংড়ি, বালি মাছ ধরেছিলাম। এই মাছ কালিদাসখালী পদ্মার নদীর ঘাটে বিক্রি করি।
এ বিষয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমিজুল আযম বলেন, পদ্মার চরের মধ্যে ১৫টি চর নিয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়েছে। পদ্মায় নতুন পানি বাড়ছে। তারপর থেকে কেউ নৌকা আবার কেউ জাল নিয়ে মাছ ধরে জীবনযাপন করে।

পদ্মার মধ্যে চরের বেশির ভাগ বাসিন্দা ভূমিহীন অসহায় খেটে-খাওয়া মানুষ। তারা প্রতিনিয়ত প্রকৃতির খামখেয়ালি রূপকে বরণ করে বসবাস করে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষ শুকনো মৌসুমে কৃষিকাজ আর বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে।