সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

পাঁচ দিন বাস বন্ধ থাকার পর চলাচল শুরু

WP Import ০১ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৩০ পূর্বাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ০১ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৩০ পূর্বাহ্ন
পাঁচ দিন বাস বন্ধ থাকার পর চলাচল শুরু
পাঁচ দিন বাস বন্ধ থাকার পর চলাচল শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর থেকে টানা পাঁচ দিন বাস বন্ধ থাকার পর বাস চলাচল শুরু হয়েছে। এর আগে মালিকরা টানা চারদিন বাস চলাচল বন্ধ রাখে। আংশিক দাবি মেনে সোমবার দুপুরে বাস চলাচলের ঘোষণা দিলেও তা প্রত্যাখান করে শ্রমিকরা। একদিন বন্ধ রাখার পর মঙ্গলবার বিকেল থেকে আবারও বাস চলাচল শুরু করেছে।

কাজে না ফিরে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর শিরোইল ঢাকা বাসস্ট্যান্ডের সামনের রাস্তা অবরোধ করেন শ্রমিকরা। তাদের মাথায় বাঁধা ছিল কাফনের কাপড়। রাত ১টা পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান নেন তারা। মঙ্গলবার সাড়ে ১০টা থেকে মাথায় কাফনের কাপড় পরে একই স্থানে বিক্ষোভ করছিলেন তারা। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তারা নানা স্লোগান দিচ্ছিলেন। পরে দুপুরে নওদাপাড়া বাস টার্মিনালে বৈঠক হলে শ্রমিকরা বাস চলাচলের ঘোষণা দেন।

উত্তরবঙ্গ বাস মালিক সমিতির মহাসচিব নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, শ্রমিকদের দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মালিকরা সোমবার থেকে চালকদের ১৭৫০ টাকা দিতে চেয়েছিলেন। এছাড়াও সুপারভাইজার ও চালকের সহকারিদের বেতন ৭৫০ টাকা ও ৭০০ টাকা করেছিলেন। কিন্তু অন্য সুবিধা দিতে রাজি হননি। মঙ্গলবার দুপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা বসে সুপারভাইজার ও চালকের সহকারিদের ১০০ ও ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বাকিগুলোর জন্য এক মাস সময় চেয়েছেন মালিকরা।

দেশ ট্রাভেলসের বাসচালক জিয়াউর রহমান বলেন, সভায় সাত দফা দাবি জানানো হয়েছে। হয় একতা ট্রান্সপোর্টের মতো সুবিধা দিতে হবে নাহলে সাত দফা দাবি মানতে হবে। এ জন্য মালিকরা আবারও সময় চেয়েছেন। শ্রমিক নেতারা সময়ও দিয়েছেন। আশা করি এবার কথা রাখবেন মালিকরা।

শ্রমিকদের সাত দফা দাবি হচ্ছে- চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চালকের জন্য ২ হাজার ২০০ টাকা, সুপারভাইজার ১ হাজার ২০০ ও চালকের সহকারি ১ হাজার ১০০ টাকা দিতে হবে। রহনপুর ও কানসাট গেলে আরও ১০০ টাকা করে বেশি দিতে হবে। এ ছাড়া এসি বাসের জন্য চালককে ২ হাজার ৫৫০ টাকা, সুপারভাইজার ১ হাজার ৪০০ ও হেলপার পাবেন ১ হাজার ৩০০ টাকা; খাদ্যভাতা প্রতি বেলা জনপ্রতি ১৫০ টাকা; মুঠোফোন বিল ৩০ টাকা প্রতি ট্রিপ ও হোটেল বিল ২৫০ টাকা যাওয়া-আসাতে; ঈদ বোনাস দিতে হবে; রিজার্ভ বাসের ক্ষেত্রে প্রতি বেলা ২০০ টাকা করে খাদ্যভাতা ও প্রতি দিনে ১টি করে বেতন; গাড়ি নাটোর পার হয়ে নষ্ট হলে ফুল বেতন দিতে হবে; ঢাকা গাড়ি রেখে এলে বা গিয়ে নিয়ে আসলে ফুল বেতন দিতে হবে।

গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় মালিক পক্ষ। এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকেরা তিন জেলা থেকে দূরপাল্লার বাস চালানো বন্ধ করে দিয়েছিলেন। দুই দিন পর মালিকপক্ষের আশ্বাসে তাঁরা বাস চলাচল শুরু করলেও আশানুরূপ বেতন-ভাতা বৃদ্ধি না হওয়ায় ২২ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে আবারও কর্মবিরতি শুরু করেন। ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল পর্যন্ত একতা ছাড়া বাকি সব বাস বন্ধ ছিল। তারপর বৃহস্পতিবার মালিকপক্ষ বাস বন্ধ করে দেয়। এখন মালিকপক্ষ বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিলেও কাজে ফিরছেন না শ্রমিকেরা।

সোমবার দুপুরে ঢাকায় বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গে মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সভা হয়। সভায় রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সর্বসম্মতিক্রমে শ্রমিকদের বেতন-ভাতাসংক্রান্ত আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কফিল উদ্দিন। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, একজন চালক রাজশাহী থেকে আপডাউনের জন্য ১ হাজার ৭৫০ টাকা, সুপার ভাইজার ৭৫০ টাকা ও হেলপার ৬৫০ টাকা পাবেন। এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট বা রহনপুর থেকে চালক ১ হাজার ৯৫০ টাকা, সুপারভাইজার ৮০০ টাকা ও হেলপার ৭০০ টাকা পাবেন। এদিকে খাদ্যভাতা টাকাও বাড়ানো হয়েছে। আগে খোরাকির টাকা ছিল ২১০ টাকা। এখন এটি বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত না মেনে শ্রমিকেরা কর্মবিরতি শুরু করেন।

এদিকে টানা পাঁচ দিন ধরে বাস বন্ধ থাকায় যাত্রীরা সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্বের খেসারত দিতে হচ্ছে তাঁদের। কেউ কেউ জরুরি প্রয়োজনে ভেঙে ভেঙে বিভিন্ন যানবাহনে গন্তব্যে যাচ্ছেন। আবার অনেককে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে প্রাইভেট কার বা স্থানীয় বাসে যেতে হচ্ছে।