রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

নগরীতে নানা আয়োজনে বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত

WP Import ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৩:২৬ অপরাহ্ন
WP Import ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৩:২৬ অপরাহ্ন
নগরীতে নানা আয়োজনে বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত
নগরীতে নানা আয়োজনে বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত


নিজস্ব প্রতিবেদক:


নগরীতে নানা আয়োজনে বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর বাকীর মোড়ে ফাউন্ডেশন চত্বরে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর ‘প্রতিটি হৃদস্পন্দনই জীবন’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়, যা নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

র‍্যালিতে চিকিৎসক, সুধিজন, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এতে হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির নানা স্লোগান শোভা পায়। র‍্যালি শেষে ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহীর আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মসূচিতে প্রায় ৩০০ জন হৃদরোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হয়।

অনেকে এখানে প্রাথমিক ইসিজি, ব্লাড প্রেসার ও শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেবা গ্রহণ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান। প্রধান অতিথি ছিলেন দেশের প্রখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট প্রফেসর ডা. মো. আতাহার আলী।

তিনি বলেন,“মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো হার্ট। প্রতিটি হৃদস্পন্দনই জীবনের জন্য অপরিহার্য। বুকের ব্যথা, হাঁটাচলায় শ্বাসকষ্ট কিংবা অতিরিক্ত ঘাম হৃদরোগের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত হতে পারে। অনেক সময় রোগীরা এই লক্ষণগুলোকে অবহেলা করেন, যা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ হৃদরোগে মারা যান। বাংলাদেশেও হৃদরোগীদের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। জীবনযাপনের পরিবর্তন, ধূমপান, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এ রোগের প্রধান কারণ।

সভাপতির বক্তব্যে মো. আব্দুল মান্নান বলেন, রাজশাহীতে হৃদরোগ চিকিৎসায় আরও উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে ফাউন্ডেশনের দ্বিতীয় ধাপ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ওপেন হার্ট সার্জারি ও বাইপাস সার্জারির ব্যবস্থা চালু করা হবে। একই সঙ্গে শিশু হৃদরোগীদের জন্য পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি ইউনিট খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামী জুন-২০২৬ এর মধ্যে ফাউন্ডেশনে একটি আধুনিক কার্ডিয়াক অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত হবে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে আনা সম্ভব হবে। এ সময় তিনি সমাজের সামর্থবান ব্যক্তি ও সমাজহিতৈষীদের ফাউন্ডেশনের উন্নয়নকল্পে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মিজানুর রহমান খোকন। তিনি বলেন, রাজশাহীতে হৃদরোগ চিকিৎসার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহী এ অঞ্চলের মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও চিফ কনসালটেন্ট প্রফেসর ডা. মো. রইছ উদ্দিন। তিনি বলেন,“গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। কারণ অনেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন না। তাই প্রাথমিক পর্যায়েই ঝুঁকিপরীক্ষা করানো জরুরি।”
এ ছাড়া রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এ. এস. এম. সায়েম বলেন, তরুণদের মধ্যে অল্প বয়সেই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ফাস্টফুড, ধূমপান, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং ব্যায়ামের অভাব এর অন্যতম কারণ।

অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি খন্দকার এনায়েত হোসেন বাবু ও মো. হাসেন আলী, প্রফেসর মহাঃ হবিবুর রহমান, মো. লিয়াকত আলী, মো. মনোয়ার হোসেন (সেলিম), ইমতিয়াজ আহমদ শামসুল হুদা, এ. কে. মাসুদসহ নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নির্বাহী সদস্য মো. এনামুল হক ও মেডিকেল অফিসার ডা. নাফিসা লুবাবা নদী। প্রায় ৩ শতাধিক অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এ কর্মসূচি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

নগরীর শালবাগান এলাকার এক গৃহিণী রোকেয়া বেগম বলেন,“বিনামূল্যে ডাক্তার দেখানোর সুযোগ পেয়ে অনেক উপকৃত হয়েছি। আগে জানতাম না নিয়মিত ব্যায়াম ও সুষম খাদ্যের গুরুত্ব কতটা।”
একইভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন,“এমন অনুষ্ঠান তরুণদের সচেতন করতে অনেক সহায়ক। এখন থেকে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে বেশি সতর্ক থাকব।”

আয়োজকেরা জানান, হৃদরোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে জরুরি হলো সচেতনতা বৃদ্ধি। নিয়মিত হাঁটা-ব্যায়াম করা, পরিমিত খাবার গ্রহণ, ধূমপান ও মাদক থেকে দূরে থাকা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে এ রোগ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি রাজশাহীর মানুষের মধ্যে হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন।