শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত মন্ডপ প্রাঙ্গণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে মন্ডপে মন্ডপে বাজছে ঢাক ও কাঁসর। চারপাশে ফুল, ধূপ ও আগর সৌরভ ছড়াচ্ছে। শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত মন্ডপ প্রাঙ্গণ। দেবী দুর্গার আগমনী সুরে ভক্তকুল উলুধ্বনিতে মাতোয়ারা। বাহারি আলোকসজ্জায় দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা উজ্জ্বল। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী পুণ্যার্থী প্রতিমার সামনে আসছেন। দেব-দেবীদের প্রণাম করছেন। কেউ কেউ আবার দেবীর সঙ্গে তুলছেন সেলফি।
রোববার (২৮ সেপ্টম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর পূজামন্ডপগুলোতে এমন চিত্রই দেখা গেছে। ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। আজ সোমবার মহাসপ্তমী। ভক্তরা উপবাস রেখে অঞ্জলি দেবেন এবং প্রসাদ গ্রহণ করবেন। মহাষষ্ঠী তিথিতে কল্পারম্ভে বেলগাছের নিচে ঘট স্থাপন করে দশভুজা দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আয়োজন। দেবী দুর্গার সঙ্গে মন্ডপে মন্ডপে অধিষ্ঠিত হয়েছেন লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক, সরস্বতী।
নতুন জাগরণী পূজা মন্ডপে প্রতিমা দেখতে আসা সুবাশ রায় বলেন, ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে আমাদের দুর্গা উৎসব শুরু হয়েছে। মন্ডপে অনেকে পূজা দেখতে আসছেন। সোমবার মহাসপ্তমী। সপ্তমীর পর থেকে মন্ডপগুলোতে বারবে দর্শনার্থীদের ভিড়। বেশকিছু পূজা মন্ডপ ঘুরে দেখেছি। সবগুলোর পরিবেশ ভালো লেগেছে।
সূচনা রায় বলেন, বছর ঘুরে এসেছে দেবীদুর্গা। এটি ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। অনেক উৎসহ উদ্দিপনা নিয়ে আমরা এই উৎসব পালন করছি। মন্ডপে মন্ডপে আমরা ঘুরে ঘুরে প্রতিমা দেখছি। অনেক ভালো লাগছে। বিগত বছরের চেয়ে এবছর মন্ডপগুলোর সাজসজ্জা মন কাড়ছে। অনেকেই সেলফী তুলছেন।
জানা গেছে- এ বছর দেবী দুর্গার গজে (হাতি) আগমন এবং দোলায় (পালকি) গমন হবে। গজে দেবীর আগমনকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়, যা শান্তি, সমৃদ্ধি ও শস্য-শ্যামলা বসুন্ধরার প্রতীক। অন্যদিকে, দোলায় গমন মহামারি বা মড়কের ইঙ্গিত বহন করে, যা একটি অশুভ সংকেত।
প্রসঙ্গত, দুর্গোৎসবকে ঘিরে রাজশাহী জেলা ও মহানগরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এবার জেলায় ৩৮২টি ম-প ও ৮০টি নগরের মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজাকে কেন্দ্র করে মন্ডপ প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মন্ডপে মন্ডপে পৌঁছাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।