চারঘাটে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক নিহত
চারঘাট প্রতিনিধি:
রাজশাহীর চারঘাটে পুর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় লালন আলী নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মধ্য রাতে উপজেলার চকমোক্তারপুর এলাকায় ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। এসময় আহত অবস্থায় লালনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান লালন আলী। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চারঘাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান।
এলাকাবাসী বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, উপজেলার চকমোক্তারপুর এলাকার লাবান আলীর ছেলে লালন আলী, ইয়াছিন আলীর ছেলে উজ্জল হোসেন ও রাজ্জাকের ছেলে সোহাগ দীর্ঘদিন মাদক ব্যবসা করে আসছিল। মাদক ব্যবসার ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে লালন আলীর সাথে উজ্জল ও সোহাগের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার রাতে লালনের কাছে ওৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষ উজ্জল, সোহাগসহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জন লালনের উপর হামলা চালায়। এসময় উজ্জল হোসেন উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে লালনের চিৎকারে আশের লোকজন ছুটে আসলে উজ্জল তার দলবল নিয়ে পালিয়ে যায়। লালনকে উদ্ধার করে রাতেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে শনিবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লালন মারা যায়। এ দিকে লালনের মৃত্যূ খবর জানতে পেরে অভিযুক্ত উজ্জল ও সোহাগের বাড়ি থেকে সকলেই পালিয়ে গেছেন।
নিহত লালনের মা নেহেরা বেগম দাবি করে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, দেড় বছর আগে মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে উজ্জলকে ধরে নিয়ে যায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন। এ ঘটনায় লালনের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করে উজ্জল। এছাড়া উজ্জলের ধারনা লালনের সঙ্গে উজ্জলের স্ত্রীর পরকীয়া রয়েছে। এসব ধারনা ও সন্দেহের জের ধরে উজ্জল জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর থেকে আমার ছেলে মারধরসহ হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। সেই উজ্জলই আমার ছেলেকে হত্যা করলো।
চারঘাট থানার ওসি মিজানুর রহমান র বলেন, অভিযুক্তরা কেউ বাড়িতে নেয়। তাদের বাড়ি ফাকা। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।