সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

কমছে না সবজির দাম, বেড়েছে মাছের

WP Import ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৩৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৩৬ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বাজারে এখন থেকে দেখা মিলছে শীতকালীন সবজির। তবে দাম চড়া। গ্রীষ্মকালীন সবজির দামও বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছে, সরবরাহ কম থাকায় গত সপ্তাহে তুলনায় এ সপ্তাহে প্রায় প্রতিটি সবজিতিই গড়ে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নগরীর বিভিন্ন বাজারগুলোতে ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন বাজারে দেশি শশা ৮০ টাকা, বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, কাকরোল ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, সিম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৬০ টাকা, ফুলকপি পিস ৮০ টাকা, বাঁধাকপি পিস ৭০ টাকা এবং প্রতিটি পিস জালি কুমড়া ও লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, জলপাই ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এখন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়। রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, দেশি আদা ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে বেড়েছে মাছের দাম। মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম বাড়ার কারণে মাছ চাষি থেকে শুরু করে পাইকারি বিক্রেতা সবাই লোকসান আছে। বাজারে এখন মাঝারি সাইজের চাষের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০টাকা কেজি দরে। চাষের পাঙাস কেজি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০, মাঝারি সাইজ কৈ মাছ ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা, দেশি শিং ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, বড় সাইজের পাবদা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি পাঁচমিশালি ছোট মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে জাতীয় মাছ ইলিশের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। এখন এক কেজির বেশি ওজনের বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২২০০ থেকে ২৪০০ টাকায়। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২০০০ টাকায়। ৫০০ গ্রাম ওজনের ওপরের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায়।

তবে আমদানি বাড়ায় বাজারে গত কয়েক সপ্তাহে চালের দাম কমেছে। এখন বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৮-৮০ টাকা। বিভিন্ন ব্রান্ডের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৭৫-৮০ টাকায়, ব্রি-২৮ জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, পাইজাম ৫৮-৬০ টাকা কেজি। স্বর্ণা ও গুটি বিক্রি হচ্ছে ৫২-৫৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ সপ্তাহে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। সোনালি জাতের মুরগির বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়, গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায়। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়।

সাহেববাজারে কেনাকাটা আসা গৃহিণী আয়েশা খাতুন বলেন বলেন, এখন ৫০ টাকার নিচে কোন সবজি পাওয়া যায় না। আমাদের মত নি¤œবিত্ত পরিবারের মানুষের জন্য চাহিদা মত মাছ মাংস সবজি খাওয়া কষ্টকর। এখন মাসে একবারও গরুর মাংস খাওয়া হয় না। ওই কোরবানির ঈদে দিকে চেয়ে থাকতে হয়। আর মাছের দামও বেশি। তাই আজকে বাধ্য হয়ে ডিম নিয়ে যাচ্ছি। সরকারের উচিত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া।

সবজি বিক্রেতা হাসান মিয়া বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে সবজির দাম বেড়েছে। এখনো বাজারে শীতকালীন সবজি পুরোপুরি আসেনি। যখন শীতকালীন সবজি বাজারে পুরোদমে চলে আসবে তখন দাম কমতে শুরু করবে।