চারঘাটে প্রতিমায় রঙ তুলির আঁচড়ে ও সাজসাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কারিগররা

চারঘাট প্রতিনিধি:
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শারদীয় দুর্গা উৎসবের ধুম ধাম শুরু হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গাপুজা উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মন্ডপে প্রতিমায় তুলির আঁচড়ে ও মন্দিরে মন্দিরে সাজসাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মালাকাররা। এ কারনে উপজেলার হিন্দুপাড়ার প্রতিটি মন্দিরে চলছে প্রতিমা তৈরীর কাজ। দম ফেলার সময় নেই প্রতিমা তৈরির কারিগরদের। মহালয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপুজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর বোদনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল পূজা যা শেষ হবে ২রা অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বির্সজনের মধ্য দিয়ে। চিরাচরিত ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী সারা দেশের ন্যায় আর কদিন পরেই শান্তির বার্তা নিয়ে ভবে অবতরণ করবেন হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গত নাশিনী দেবী দূর্গা।
পুজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী রাহুল কান্তি ঘোষ প্রতিবেদককে জানান, এ বছর চারঘাট উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৩৮টি মন্ডপে দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের তুলনায় এবার মন্ডপে পুজা বেড়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারো সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি মন্ডপের জন্য চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরকর্তৃক ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে ৩৮টি পূজামন্ডপে ১৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং আগত ভক্ত আহার্য্য বাবদ প্রত্যেকপূজা মন্ডপে ৫০০ কেজি চাউল বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরহাদ লতিফ। এবছর উপজেলার পৌরসভায় ৯টি, চারঘাট ইউনিয়ন ৩টি,ইউসুফপুর ৩টি, শলুয়া ইউনিয়ন ৬টি, নিমপাড়া ইউনিয়ন ৯টি, সরদহ ইউনিয়ন ৭টি ও ভায়ালক্ষীপুর ১টি মন্ডপে পুজা উদযাপন হবে। চারঘাট সদরের প্রতিমাশিল্পী বকুল কুমার সাহা জানান, প্রতিমা তৈরী তাদের পৈত্রিক ব্যবসা। তাই পৈত্রিক ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য তিনি কাজ করছেন। তিনি ও তার ছেলে জিৎ কুমার সাহাসহ ২৫টি প্রতিমা গড়ছেন। প্রতি মন্ডপ বিত্রুয় হবে ২৫-৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ।
সামাজিক সম্পৃতির উপজেলা চারঘাটে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ বাস করে। কালের বিবর্তনে অন্যান্য পূজা হারিয়ে গেলেও আজো চারঘাটের দুর্গাপুজার সুনাম অক্ষুন্ন রয়েছে। পূজা উদযাপন করতে ইতিমধ্যেই বাড়ি বাড়ি জামাই মেয়ে নিয়ে আসার ধুমধাম শুরু হয়েছে।এছাড়াও প্রতিমা তৈরীর কাজ প্রায় শেষের দিকে এখন চলছে রঙ তুলির কাজ। তার পরেই পূজামন্ডপ গুলো ঢাক ঢোলের বাজনা আর উলুধ্বনিতে ভরে উঠবে ।
হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপুজা উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে থানা পুলিশের পাশাপাশি প্রতিটি পূজা মন্ডপে ২জন নারী ও ২জন পুরুষ আনসার ও ভিডিপি’র সদস্যরাও দায়িত্বে থাকবেন বলে জানান, চারঘাট মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান। এই প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, প্রতিটি পূজামন্ডপে ৫০০ কেজি করে সরকারি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তায় মনিটরিং অব্যহত রয়েছে ও প্রতিটি পূজা মন্ডপে আইনশৃঙ্খলা সদস্য বাহিনী নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে।