রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

পূজায় ছাড়ের ছড়াছড়ি, দেখা নেই ক্রেতার

WP Import ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৫০ পূর্বাহ্ন
WP Import ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৫০ পূর্বাহ্ন
পূজায় ছাড়ের ছড়াছড়ি, দেখা নেই ক্রেতার
পূজায় ছাড়ের ছড়াছড়ি, দেখা নেই ক্রেতার

নিজস্ব প্রতিবেদক:


শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হতে আর মাত্র একদিন বাকি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হবে আগামী রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর)। পূজা ঘিরে কাপড়ের বিভিন্ন ব্যান্ডগুলো দিচ্ছে ছাড়। কেউ বা গিয়ে ঠেকেছে ৭০ শতাংশ ছাড়ে। তবুও ক্রেতার দেখা মিলছে না এই শোরুমগুলোতে। বিক্রি আশানুরূপ না হওয়ায় হতাশ হচ্ছেন বিভিন্ন ব্র্যান্ডশপে থাকা কর্মীরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার দুর্গাপূজায় ক্রেতা নেই বললে চলে। দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোর কর্মকর্তা বলছেন, এবার পূজায় বড়ধরনের লোকসান গুনতে হবে। লক্ষ্যমাত্রা যা আছে তাও পূরণ হবে না। পূজাকে কেন্দ্র করে নতুন পোশাকের পর্যাপ্ত কালেকশন ও আয়োজন থাকলেও সে অনুযায়ী ক্রেতা নেই। ক্রেতা টানতে পোশাকের দোকানগুলো ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়েছে।

রাজশাহী মহানগরীর নিউমার্কেট থেকে সাহেববাজার পর্যন্ত ব্র্যান্ডশপগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, কেউ ছাড় দিচ্ছে ৩০ শতাংশ, কেউ অর্ধেক দামে। আবার ৭০ শতাংশ ছাড় দিয়েও ক্রেতার মন জয় করতে পারছেন না। শুধু শপিং মল নয়, অনলাইন শপেও লোভনীয় অফার দিয়েও ক্রেতা পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। এবার দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে এমন ভাটা পড়েছে বেচা-কেনায়।
পোশাক প্রতিষ্ঠান ‘স্মারটেক্স’-এর ব্যবস্থাপক মামুনুর রশিদ জানান, গেল বছরের তুলনায় এবছর বিক্রি অর্ধেক নেমে এসেছে। সেসময় দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও ব্যবসা ভালো ছিল। কিন্তু এবার মাসের শুরু থেকে ছাড় দিয়েও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। ক্রেতাদের সংখ্যা কম, অনেকে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার জন্য অপেক্ষা করছেন।

‘ল্যান্ড’-এর কর্মকর্তা শুভাশিস সাহার মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব, দাম বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া বিক্রির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, আমরা যে পরিমাণ ব্যবসার আশা করেছিলাম, তা পূরণ করতে পারছি না। বাজারের অবস্থা আশানুরূপ নয়।
‘ইনফিনিটি’-এর কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ জানান, গত চার-পাঁচ দিন ধরে মোটামুটি ব্যবসা হচ্ছে। আশা করেছিলাম পূজার কেনাকাটা হবে কিন্তু মুসলিম ক্রেতার সংখ্যা বেশি। কিন্তু কোরবানি ইদের পর থেকে ব্যবসার অবস্থা ভালো ছিল না। ইদেও সেভাবে ক্রেতা পাওয়া যায়নি।

উদ্যোক্তা সামিনা ইসলাম অনলাইনে বিক্রি করেন পোশাক। তিনি বলেন, এবার তো ব্যবসা নেই। আমরা ভারতীয় পোশাক নিয়ে কাজ করি। ভারতীয় ভিসা বন্ধ। একটা প্রোডাক্টও তুলতে পারিনি। দেশীয় পণ্য তুলেছি। কিন্তু ক্রেতারা চান কলকাতার পোশাক। যে ইনভেস্ট করেছি তাতেও লোকসান গুনতে হবে।
সাহেববাজারে একটি শাড়ির দোকানের স্বত্বাধিকারী মনির হোসেন বলেন, অন্য বছরগুলোতে পূজা উপলক্ষ্যে এই সময় কারও সঙ্গে কথা বলার সময় থাকে না। কিন্তু এবার একদম ফাঁকা। কিছু বাঁধা কাস্টমার আছেন, উনারা সপ্তাহ খানেক আগে কিছু শাড়ি-লেহেঙ্গা কিনে নিয়ে গেছেন। এখন আর ক্রেতার দেখা নেই।’

এবার ব্যবসার চিত্র সবখানে একই রকম। এমন চিত্র দেখা গেছে সবচেয়ে নিউ মার্কেট, থিম ওমর প্লাজাতেও। বিক্রেতারা বলছেন, পুজার বাকি দুইদিন থাকলেও জমে ওঠেনি বাজার।
আরডিএ মার্কেটে গিয়ে দেখা গেছে, দোকানিরা ঝিমোচ্ছে। ক্রেতা সমাগম কম। যেখানে অন্য বছরগুলোতে এ সময়ে দম ফেলার সময় থাকে না। ভিড় ছিল না কসমেটিকের দোকানেও। ক্রেতার চেয়ে যেন দর্শনার্থীর সংখ্যাই দেখা গেছে বেশি। ভিড় নেই অন্য দোকানেও। শাড়ি, গহনা, জুতা সবই ফাঁকা।

পোশাকের পাশাপাশি ছাড় দিতে দেখা গেছে ব্রান্ডের জুতার দোকানেও। প্রথম সারির ব্র্যান্ড এপেক্স, বাটা ও লোটোর মতো ব্র্যান্ডগুলোও ছাড় দিচ্ছে। বাটা এখনও ২০ শতাংশ ছাড় দিয়ে রেখেছে। শোরুম কর্মী ধ্রুব জানান, বেচাকেনা কম দেখে প্রতিষ্ঠান থেকে ছাড় দিয়ে রেখেছে। তবে এখানে বাছাই করা কিছু পণ্যে ২০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। আমরা গত দুই মাস ধরে জুতায় ছাড় দিয়ে রেখেছি। স্টক খালি হলে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ফুটপাতের দোকানি থেকে নামিদামি শপিংমল- পূজার এই সময়টার জন্য মুখিয়ে থাকেন সবাই। অনেক নি¤œবিত্ত পরিবারের সংসার চলে তৈরি পোশাকে, পূজার ম-প সজ্জায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম বানিয়ে। একদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, অন্যদিকে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন- এই দুইয়ের কারণে কেনাকাটায় প্রভাব পড়েছে এবারের পূজার বাজারে।