ইসলামপন্থি একটি দল ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাচ্ছে: রিজভী

সোনার দেশ ডেস্ক:
ইসলামপন্থি একটি দল ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, অনেকে ফ্যাসিস্টদের প্রত্যাবর্তন ঘটানোর জন্য চিন্তা করছেন। যারা বলেন তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার জন্য চিন্তা করছেন তারা কি ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষা নেননি? আমাদের দেশে ইসলামপন্থি একটি রাজনৈতিক দল বরাবরই আমার মনে হয়েছে আওয়ামী লীগকে সন্তুষ্ট করার জন্য কাজ করছে। তারা এদেশে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছে শহীদ জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে। তারা নিষিদ্ধ দল ছিল। শহীদ জিয়া তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু তাদের এমন কোনো মিটিং নেই, এমন কোনো কর্মসূচি নেই যে, তারা স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে সমর্থন করেছেন এবং তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেননি। এরপর আমরা দেখেছি, প্রতিটি ঘটনায় তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে, আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করেছেন।
উদাহরণ তুলে ধরে রিজভী বলেন, ৮৬ সালে নির্বাচনে যাওয়া, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে গেছে। মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এক আর কাজ করেছে আরেক। ঠিক একইভাবে তারাও করেছে। এরপরে আমরা দেখেছি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগ যে আন্দোলন করলো সেই আন্দোলন আওয়ামী লীগের সঙ্গে তারাও করেছে।
রিজভী বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ওই সময়ে তারা হত্যাও করেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র টিটোকে শিবির (ইসলামী ছাত্রশিবির) গুলি করে হত্যা করেছিল। ১৯৯৫-৯৬ সালে যে আন্দোলন হয়েছিল এটা তো কারও ভুলে যাওয়ার কথা নয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে যাওয়া, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) যেতে চাননি। তাদেরই নেতারা বাধ্য করেছিল, না হলে তারা স্বতন্ত্রভাবে করবে। এখন আবার তারা স্বরূপে বেরিয়েছে এবং আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন চাচ্ছে। ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাচ্ছে। কিন্তু এটাও আমাদের মনে রাখতে হবে, এই দেশটি শেখ হাসিনার মতো রক্ত পিপাসু দানবকে প্রশ্রয় দিয়েছে নিজ দেশের মানুষকে হত্যা করার জন্য।
তিনি বলেন, নিজের দেশের মানুষকে হত্যা করে ক্ষমতা চিরতরে আঁকড়ে রাখা যার বাসনা ছিল এরকম মডেলে যে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিলেন শেখ হাসিনা, সেই ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান বা পুনর্জাগরণের কোনো সুযোগ বাংলাদেশে নেই। এদেশের মানুষ মধ্যপন্থি, এদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু গণতন্ত্রপ্রিয়। তারা কথা বলতে চায় নির্ভয়ে, তারা এক-দুই বেলা কম খেলেও তাদের কণ্ঠের আওয়াজ তীব্র করতে চায়। সে দেশের মানুষকে জোর করে ফ্যাসিবাদের নতুন ধারায় কেউ মনে করে যে নিয়ে আসতে চাইবে এটা জনগণ হতে দেবে না।
তথ্যসূত্র : জাগোনিউজ