রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

রাজশাহীসহ তিন জেলা থেকে বন্ধ হলো দূরপাল্লার বাস

WP Import ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৪৭ অপরাহ্ন
WP Import ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৪৭ অপরাহ্ন
রাজশাহীসহ তিন জেলা থেকে বন্ধ হলো দূরপাল্লার বাস
রাজশাহীসহ তিন জেলা থেকে বন্ধ হলো দূরপাল্লার বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আবারও কর্মবিরতি পালন করছেন বাসের শ্রমিকরা। এনিয়ে দুইবারের মতো কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। এর আগে টানা ৩৯ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছিল শ্রমিকরা। সে সময় মালিকদের বেতন বাড়ানোর আশ্বসে আবারও বাস চলাচল শুরু হয়। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহী নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এ সময় তারা পারিশ্রমিক বৃদ্ধির দাবি জানান।

এদিন ভোর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী দেশ ট্রাভেলস, ন্যাশনাল ট্রাভেলস, গ্রামীণ ট্রাভেলস, হানিফ, হানিফ কেটিসি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। শুধু মাত্র চলাচল করছে একতা ট্রান্সপোর্ট। এছাড়াও কিছু লোকাল বাস চলছে এতে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।

শ্রমিকেরা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা রুটে একজন চালককে পারিশ্রমিক হিসেবে ১ হাজার ৩৫০ টাকা, সুপারভাইজারকে ৫৭০ এবং হেলপারকে ৫৩০ টাকা দেওয়া হয়। গত ১৫ বছরে একতা ছাড়া অন্য পরিবহনের শ্রমিকদের কোনো পারিশ্রমিক বাড়েনি। তাই পারিশ্রমিক বৃদ্ধির দাবিতে ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর বাস চলাচল বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করেন চালক, হেলপার ও সুপারভাইজাররা। তখন তাদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধির আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। তাই শ্রমিকেরা আবার অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন।

ন্যাশনাল ট্রাভেলসের হেলপার রেজা বলেন, আমরা এক ট্রিপে ৬০০ টাকা পাই। খরচ বাদ দিলে হাতে থাকে মাত্র ৪০০ টাকা। মাসে ১৪টি ট্রিপ করলে আয় হয় ৫ হাজার ৬০০ টাকা। এই টাকায় সংসার চালানো কষ্টকর।

দেশ ট্রাভেলসের চালক রহমত আলী বলেন, এর আগে মালিকরা বসে বাসের চালকদের ১০০ টাকা ও সুপারভাইজার এবং হেলপারের বেতন ৫০ টাকা বাড়িয়েছিল। এই বেতন নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। এরপর তারা কর্নপাত করেনি। ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর কর্মবিরতি পালন করলে মালিকরা বেতন বৃদ্ধির জন্য ২১ তারিখ পর্যন্ত সময় চান। কিন্তু ২১ তারিখেও তারা বেতন বৃদ্ধি করেননি। উল্টো তারা বলছেন একতা ট্রান্সপোর্ট বেশি বেতন দিচ্ছে তাদের বেতন কমাতে হবে। নাহলে এতে মালিকদের লোকসান হচ্ছে। একতা ট্রান্সপোর্ট বেশি বেতন দিতে পারলে অন্য কেন পারছে না। আমরা বেতন বৃদ্ধি না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, শ্রমিকরা তাদের বেতন বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন করছেন। আমরা আবারও মালিকদের সঙ্গে বসব। এর আগে বসেছিলাম সে সময় ১০০ টাকা বাড়িয়েছিল। বেশ কয়েবার এনিয়ে বসার জন্য বললে তারা বসতে চাননি। তারা বারবার বেতন বাড়াতে চেয়েও বাড়াচ্ছেন না। তাই চালকরা বাস বন্ধ করে দিয়েছে।

রাজশাহী পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল জানান, দেশ ট্রাভেলস, ন্যাশনাল ট্রাভেলস, গ্রামীণ ট্রাভেলস, হানিফ ও কেটিসির কর্মচারীরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস বন্ধ ঘোষণা করেছেন। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলাম। কিন্তু তারা বর্তমান বেতনের প্রায় দ্বিগুণ দাবি করছেন। কিন্তু মালিকপক্ষ এতে রাজি নয়। তাই সমাধান হয়নি। তবে এ কয়েকটি ছাড়া অন্য কোম্পানির বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটের বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন শ্রমিকরা। ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে সোমবার সকাল থেকে শ্রমিকরা এ কর্মসূচি পালন করছেন। এতে বিপাকে পড়েছে যাত্রী সাধারণ।

শ্রমিকরা জানান, গত ১৫ বছর ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটের বাস চালক, সহকারী ও সুপারভাইজাদের বেতন বাড়ানো হয়নি। ১৫ বছর আগেই নির্ধারিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা যাতায়াতে একজন বাস চালককে ১৩৫০, সুপারভাইজারকে ৫৭০ এবং হেলপারকে ৫৩০ টাকা দেয় বাস মালিকরা। দফায় দফায় বাস মালিকদের সঙ্গে বসেও সমস্যার সমাধান হয়নি।

এমতাবস্থায় সোমবার সকাল থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট চলাচলকারী সব গাড়ি বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করছেন তারা। তবে একতা পরিবহনের বাস চলাচল করছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংক লরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, ২১ সেপ্টেম্বর বাসস্টাফদের সঙ্গে মালিকপক্ষের বসার কথা ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে সেই তারিখ পরিবর্তন করে মালিক পক্ষ। এতে হতাশা ব্যাক্ত করে বাসস্টাফরা ধর্মঘট পালন করছে।

অন্যদিকে আমাদের নাটোর প্রতিনিধি জানান, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে পরিবহন শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ রাখায় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সকল যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে নাটোর থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

পরিবহন শ্রমিক রাশেদুল জানান, একটি যাত্রীবাহী বাস রাজশাহী থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে রাজশাহী চলাচল করলে চালককে এক হাজার ৩শ টাকা, সুপার ভাইজারকে ৫৭০টাকা ও চালকের সহকারিকে ৫২০ টাকা প্রদান করেন পরিবহন মালিকরা। দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন মালিকদের কাছে বেতন বৃদ্ধি দাবি করে প্রতিকার পাননি পরিবহন শ্রমিকরা। চালকের বেতন ২ হাজার টাকা এবং সুপার ভাইজার ও চালকের সহকারির বেতন ৫শ টাকা বৃদ্ধির দাবিতে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে পরিবহন শ্রমিকরা ঢাকাগামী বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেন।

বাস চলাচল বন্ধ থাকায় নাটোরের অনেক কাউন্টার বন্ধ রাখা হয়। ঢাকাগামী যাত্রীরা নাটোর বাসট্যান্ডে এসে দুর্ভোগে পড়েন। দুর্ভোগ থাকলেও যাত্রীরা বলছেন শ্রমিকদের এই দাবি যৌক্তিক।
যাত্রী শামীম আহমেদ বলেন, জরুরি কাজে ঢাকায় যেতে হবে। ছোট ভাইকে নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে বসে আছি। কি করবো ভেবে পাচ্ছি না।
আরেক যাত্রী মানিক জানান, বাস বন্ধ থাকায় ফিরে যাচ্ছেন তিনি। তবে শ্রমিকদের দাবি সঠিক বলে মনে করেন তিনি। তবে বিষয়টি নিয়ে নাটোরের বাস কাউন্টারগুলোর কেউ কথা বলতে চাননি।