রাবিতে শাটডাউন চলছে, জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের শাটডাউন প্রত্যাহার

রাবি প্রতিবেদক:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ (অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি) শুরু হয়েছে। পোষ্য কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই কর্মসূচি ডাকা হয়েছে। ফলে ক্যাম্পাস পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে পড়েছে, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
সোমবার সকাল ৯টা থেকে কর্মবিরতি শুরু হয়। প্রশাসন ভবনের সামনে ও বুদ্ধিজীবী চত্বরে বসে সময় কাটান কর্মবিরতিতে অংশগ্রহণকারীরা। প্রশাসন ভবনসহ বিভিন্ন দফতরে তালা ঝুলছিল। ্যাম্পাসের বাস চললেও শিক্ষার্থীদের দেখা যায়নি। খাবার দোকানগুলোতে আসন ফাঁকা, বেশিরভাগ দোকান বন্ধ।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে সভা শেষে লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল আলীম। অফিসার সমিতি সংবাদ সম্মেলন করে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘কমপ্লিট শাটডাউনের’ ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, পরিবহন মার্কেট, আমতলা, টুকিটাকি চত্বরসহ জনবহুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের আনাগোনা নেই। একজন দোকানি নূর উদ্দীন বলেন, ‘এই সময়ে শিক্ষার্থীরা খাবার খাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতেন, কিন্তু আজ হাতেগোনা কয়েকজন এসেছেন।’ শিক্ষার্থী রাজু ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক দিন ক্যাম্পাসে অনেক ঘটনা ঘটেছে। কালকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হলো। মনে হচ্ছে না যে শীঘ্রই তা শুরু হবে। রাকসু নির্বাচনে ভোট দিতে ক্যাম্পাসে ছিলাম, এখন মনে হয় না যে নির্বাচন হবে!’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত রাকসু নির্বাচন নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল ক্যাম্পাসে। প্রার্থীরা নানা কৌশলে প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। এর মধ্যে সে দিন সন্ধ্যায় বাতিল হয়ে যাওয়া পোষ্য কোটা ১০ শর্তে ফিরিয়ে আনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর পর থেকে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের এক পর্যায়ে গত শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে গতকাল রোববার শিক্ষক-কর্মকর্তারা লাঞ্ছিতকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও পোষ্য কোটা পুনর্বহালের দাবিতে এক দিনের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি ঘোষণা করে। আজ থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন।
শাটডাউন অব্যাহত থাকবে
সোমবার সকাল থেকে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কমপ্লিট শাট ডাউন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ কর্মসূচির কারণে বন্ধ ছিল ক্লাস-পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম। এই কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় অফির্সাস সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন। তিনি বলেন, যতদিন পর্যন্ত আমরা আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা এবং লাঞ্চিত হওয়ার বিচার না পাবো ততোক্ষণ আমাদের এই কমপ্লিট শাট ডাউন চলবে। রাকসুর সাথে আমাদের কোনো লেনাদেনা নেই। আমরা আমাদের দাবির বাস্তবায়ন চাই।
জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের শাটডাউন প্রত্যাহার
শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডাকা কমপ্লিট শাটডাউনের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট প্রতিনিধি নির্বাচনে শিক্ষকদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদ।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদের জরুরি সভা শেষে এক সংবাদ বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরে সিদ্ধান্তের বিষয়ে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদ রাবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. জে এ এম সাকিলউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদের রাবি শাখার উদ্যোগে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের বহুল প্রত্যাশিত রাকসু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত অফিসিয়াল কার্যক্রমে শিক্ষকদের সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
একইসঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে গত ২০ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত দোষীদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জোর দাবি জানানো হয়।
গণমাধ্যমের সামনে সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংবাদ বিবৃতি প্রদানের সময় অন্তত ১০ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় কতজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন এবং এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষকের মতামত কি না- এমন প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর মেলেনি।