রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

রাকসু নির্বাচন পিছিয়ে ১৬ অক্টোবর

WP Import ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:১৩ অপরাহ্ন
WP Import ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:১৩ অপরাহ্ন
রাকসু নির্বাচন পিছিয়ে ১৬ অক্টোবর
রাকসু নির্বাচন পিছিয়ে ১৬ অক্টোবর

রাবি প্রতিবেদক:


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত হবে রাকসু নির্বাচন। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে রাকসু প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা (সোমবার) রাকসু নির্বাচন কমিশন ২০২৫-এর পূর্ণাঙ্গ সভায় আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু, হল সংসদ ও সিনেট-এ ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনপূর্ব উদ্ভূত পরিস্থিতি সার্বিকভাবে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। এ সভা লক্ষ্য করে যে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরাজমান পরিস্থিতি কোনো অবস্থাতেই রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুকূলে নয়।

অনুকূলে না থাকার কারণ হিসেবে সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঘোষিত “কমপ্লিট শাটডাউন” কর্মসূচী চলছে। এছাড়া নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক/কর্মকর্তা/কর্মচারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি। উপর্যুক্ত বিবেচনায় রাকসু নির্বাচন উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার স্বার্থে কমিশন আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে আগামী ১৬ অক্টোম্বর রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।
রাকসুর প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. সেতাউর রহমান বলেন, ‘আমরা সার্বিক দিক বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করছি, নতুন যে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে, সেদিন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল ছাত্র সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরসমর্থিত প্যানেল। এছাড়াও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করছিল।

এর আগে ছাত্রদলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন বলেছেন, চলমান পরিস্থিতিতে দুর্গাপূজার পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। সোমবার দুপুরে এক বিফ্রিংয়ে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন তাদের প্যানেলের এই অবস্থান জানান। শেখ নূর উদ্দীন বলেন, ছাত্রদল সব সময় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। ক্যাম্পাসে যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও ভোটারদের আনাগোনা ছিল, সেটা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। ভোটার নেই বললেই চলে, বেশির ভাগ শিক্ষার্থী বাড়িতে চলে গেছেন। আমরা চাই, সর্বোচ্চ ভোটারের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে একটি নির্বাচন। আমরা নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করব, আপনারা বিষয়টি বিবেচনা করেন, শিক্ষার্থীদের পালস বোঝার চেষ্টা করেন। আমাদের চাওয়া, নির্বাচনটা ছুটির (দুর্গাপূজার ছুটি) পরে হোক।’

দুপুর তিনটার দিকে রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের কাছে নিজেদের অবস্থান জানান ছাত্রশিবিরের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন , তারা ২৫ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন চান। অনেক রাকসু বানচালকারী গোষ্ঠী নির্বাচন পেছানোর অপরাজনীতি করছে। সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে কিছু বোল্ড স্টেটমেন্ট দিয়েছি। আমাদের প্রথম মতামত হচ্ছে, যথাসময়েই নির্বাচন হতে হবে। এটা কোনোভাবেই পেছানো যাবে না। দ্বিতীয় দাবি হচ্ছে, নির্বাচনের দিন বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে। তৃতীয় দাবি হচ্ছে, ভোট গণনা সুষ্ঠুভাবে হতে হবে। চতুর্থ দাবি, ভোটের দিনই ফলাফল ঘোষণা করতে হবে। যারা জয়ী হবে না, তারা নির্বাচন পেছানোর কথা বলছে উল্লেখ করে তিনি এই অপরাজনীতি থেকে তাদের বিরত থাকার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ, রাকসু ফর র‌্যাডিকাল চেঞ্জ, সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ ও ইউনাইটেড ফর রাইটস প্যানেলের প্রার্থীরা দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে তারা পোষ্য কোটা ইস্যুতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চলমান আন্দোলন কর্মসূচির মধ্যে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে পারে না দাবি করে নির্বাচনের তারিখ পেছানোর দাবি জানিয়েছেন।