রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

ভোটার ছাড়া রাকসু ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ হবে: সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীরা

WP Import ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৩:০৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৩:০৩ অপরাহ্ন
ভোটার ছাড়া রাকসু ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ হবে: সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীরা
ভোটার ছাড়া রাকসু ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ হবে: সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীরা

সংবাদ সম্মেলনে ‘সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ’, ‘রাকসু ফর র‌্যাডিকাল চেঞ্জ’, ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’, ‘ইউনাইটেড ফর রাইটস’ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা

রাবি প্রতিবেদক :


ক্যাম্পাসের অস্থিতিশীল পরিবেশ, ‘কমপ্লিট শাটডাউনের’ ফলে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ এবং পূজার ছুটি সামনে রেখে শিক্ষার্থীরা হল ও মেস ছেড়ে যাচ্ছে; এই অবস্থায় তুলনামূলক কম ভোটারের উপস্থিতিতে রাকসু নির্বাচন হলে সেটি ‘প্রশ্নবিদ্ধ ও প্রহসনের’ হবে বলে বার্তা দিয়েছেন অন্তত অর্ধশতাধিক প্রার্থী।

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ’, ‘রাকসু ফর র‌্যাডিকাল চেঞ্জ’, ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’, ‘ইউনাইটেড ফর রাইটস’ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
এ সময় চারটি প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে দ্রুত ‘পোষ্য কোটা’ সমাধানের দাবিও জানিয়েছেন।

তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রেখে রাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে, ক্যাম্পাসের অস্থিতিশীল পরিবেশ, কমপ্লিট শাটডাউন, পূজার ছুটি সব কিছু বিবেচনা করে রাকসু নির্বাচন কমিশনারকে পরবর্তী পদক্ষেপ অতি দ্রুত নিতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্থিতিশীল করে রাকসু নির্বাচন হতে দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’ এর সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী তাসিন খান।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘পোষ্য কোটা’ পুনর্বহালের প্রজ্ঞাপন জারির পর একে কেন্দ্র করে পরস্পরবিরোধী পদক্ষেপে তিন ধরে ক্যাম্পাসে যে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তার মধ্যেই প্রার্থীরা এই দাবি জানালেন।

রাকসু নির্বাচনের ইতিহাসে একমাত্র নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন বলেন, “২৫ তারিখে আসন্ন রাকসু নির্বাচন উপলক্ষে আমরা সকলেই উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার করছিলাম। কিন্তু ‘পোষ্য কোটা’কে সামনে এনে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে সেখানে ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী সকলেই পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে; যা আমাদের কখনোই কাম্য নয়। রাকসু আমরা চাই, রাকসু দিতে হবেই। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন কোনোভাবেই বন্ধ করা চলবে না।

তিনি বলেন, “কিন্তু নির্বাচনের প্রাণ- শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ না হলে সেই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবেই। ‘পোষ্য কোটা’ ইস্যুতে ক্যাম্পাস ‘কমপ্লিট শাটডাউনের’ ফলে আপনারা সকলেই জানেন, শিক্ষার্থীরা অলরেডি বাসায় যাওয়া শুরু করেছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় পূজা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছুটির পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত এই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ আমাদের সব প্যানেলের, সকল স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে এবং দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাকসু নির্বাচনকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করবে।”

স্বতন্ত্র সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী শাহ পরাণ বলেন, “শিক্ষার্থীরা অধিকাংশ বাসায় চলে যাচ্ছে। এই অবস্থায় নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা প্রহসন ছাড়া আর কিছু হবে না। এ ছাড়া ‘পোষ্য কোটা’য় যদি পরবর্তীতে ভর্তি করানো হয়, সেক্ষেত্রে যারা পরবর্তীতে ভর্তি হবে তারা প্রার্থী এবং ভোটার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। পরবর্তীতে তাদের কাজে লাগিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি করে নির্বাচন যে বানচাল করা হবে না তার নিশ্চয়তা কে দেবে?”

‘রাকসু ফর রেডিক্যাল চেঞ্জ’ প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ বলেন, “আমরা ভোট চাইতে গিয়ে দেখছি মেসগুলোতে ৫০ বা ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী বাসায় চলে গিয়েছেন। এই অবস্থায় নির্বাচন কীভাবে হতে পারে? নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনকে আগে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে হবে। নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের ২৫ তারিখ নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো আপত্তি নেই।”

রাকসুতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ‘সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ’, ছাত্র ফেডারেশন ও ছাত্র অধিকার পরিষদ ‘রাকসু ফর র‌্যাডিকাল চেঞ্জ’, সাবেক দুই সমন্বয়কের নেতৃত্বে ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’ এবং কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে ‘ইউনাইটেড ফর রাইটস’ নামে লড়াই করছেন। সংবাদ সম্মেলনে রাকসুর বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অর্ধশতাধিক প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন।