রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

দুর্গাপুর খাদ্য গুদাম থেকে অনুপযোগী ৮০ মেট্রিক টন চাল উদ্ধার,তিনজনকে বদলি

WP Import ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৪২ অপরাহ্ন
WP Import ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৪২ অপরাহ্ন
দুর্গাপুর খাদ্য গুদাম থেকে অনুপযোগী ৮০ মেট্রিক টন চাল উদ্ধার,তিনজনকে বদলি
দুর্গাপুর খাদ্য গুদাম থেকে অনুপযোগী ৮০ মেট্রিক টন চাল উদ্ধার,তিনজনকে বদলি

দুর্গাপুর প্রতিনিধি:


রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার খাদ্যগুদামে আবারো সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় নিম্নমানের খাওয়ার অনুপযোগী চাল পাওয়া গেছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুর্গাপুর উপজেলার খাদ্যগুদাম থেকে ২০ মেট্রিক টন নিম্নমানের চাল বের হয়েছে। এ নিয়ে ওই গুদাম থেকে এ ধরনের ৮০ মেট্রিক টন চাল বের করা হলো। নিম্নমানের চাল উদ্ধারের ঘটনায় এরই মধ্যে দুর্গাপুর উপজেলার খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ তিনজনকে বদলি করা হয়েছে।

জানা গেছে, উপকারভোগীদের মাঝে চাল নিয়ে অসন্তোষ ও অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৬ আগস্ট আকস্মিক খাদ্য গুদাম পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন। এসময় তিনি লাল তামড়ি চাল শনাক্ত করেন যা মানুষের খাওয়ার অনুপযোগী। সে প্রেক্ষিতে ভিডাব্লিউবি, টিসিবি, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচিতে নিম্নমানের চালের মিশ্রন শনাক্ত করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এরপর তিনি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। এ ছাড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকেও পৃথক কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। কমিটি মঙ্গলবার পর্যন্ত দুর্গাপুর খাদ্যগুদাম থেকে মোট ৮০ মেট্রিক টন খাওয়ার অনুপযোগী চাল বের করেছে।

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম অতি গোপনে গত ২৮ আগস্ট ১৩২ বস্তা নিম্নমানের চাল খাদ্য গুদাম থেকে সরিয়ে গুদামের নিরাপত্তা প্রহরী শাহজাহানের বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাল উদ্ধার করেন এবং রফিকুলকে স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে তলব করলে তিনি তার সংশিষ্ট দফতরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরামর্শে দ্রুতই চাল স্থানান্তর করতে ওই বাড়িতে রেখেছিলেন। স্বীকারোক্তির ফুটেজ, অডিও রেকর্ড, চালের ভিডিও সাংবাদিকদের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনার পরে টিসিবি ও সরকার কর্তৃক অসহায় দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর মাধ্যমে বর্তমানে ভালো মানের চাল পাওয়ায় এমন অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা।
দেলুয়াবাড়ী গ্রামে হাওয়া বেগম বলেন, আমরা আগে বেশিরভাগ সময় কার্ডের মাধ্যমে ইউনিয়নে দেওয়া ৩০ কেজি করে অতি নিম্নমানের চাল পেতাম। ইউএনও স্যার গুদামে খারাপ চাল ধরার পরে এখন আমরা ভালো চাল পাই। টিসিবি কার্ডধারী শরিফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে টিসিবির মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে ক্রয় করা ৫ কেজি করে চাল ভালো মানের। এ চাল খাওয়ার উপযোগী। আগে যে চাল পাওয়া যাচ্ছিলো তা খাওয়ার অনুপযোগী ছিলো। বিশেষ করে সেই চাল গরু ও হাঁস-মুরগীকে খাওয়াতে হত। খারাপ চাল বিতরণ বিষয়ে কেউ কথা বলতো না। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন মহতী কাজকে স্বাগত জানান।

আরও জানা যায়, এ পর্যন্ত খাদ্য গুদামে ৮০ মে. টন নিম্নমানের চাল শনাক্ত করা হয়েছে যা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক-এর সাথে পরামর্শক্রমে ৮০ মে. টন উন্নতমানের চাল সরবরাহ করেছে। এই চাল বুঝে পাওয়ার পর স্থগিত সকল সরকারি কার্যক্রম গত ৪ সেপ্টেম্বর পুনরায় শুরু করা হয়েছে। এ নিয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন উপজেলা প্রশাসন। তদন্ত কমিটি চালে মিশ্রণ ও নি¤œমানের চাল মজুদের সত্যতা পেয়েছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে কারণ দর্শানো হয়েছে।

সূত্র মতে, ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে রফিকুল ইসলামকে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর সংযুক্তি মুলাধলীতে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা প্রহরী শাহজাহান আলম ও শ্রী বাবুল কুমারকে বগুড়ার খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

এবিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এলএসডি) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, আমাকে শোকজ করা হয়েছিলো আমি তার যথাযথ উত্তর দিয়েছি। আমাকে বদলি করা হয়েছে। ওই চাল সম্পর্কে কিছু জানি না। ৬০ মেট্রিক টন চাল রিপ্লেস করা হয়েছে, আরও বাকি ২০ মেট্রিক টন রিপ্লেস হবে। আমি শাস্তিযোগ্য কোনো অপরাধ করিনি। চাল অন্য গুদাম থেকে এসেছে।
দুর্গাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইয়াসিন আলী জানান, উদ্ধার হওয়া চাল সম্পর্কে কিছু জানি না। খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এলএসডি) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তার দায়িত্ব ভালো চাল বুঝে নেওয়া। তার ব্যর্থতার কারণে নিম্নমানের চাল গোডাউনে ঢুকেছিলো। আমরা তা শনাক্ত করে রিপ্লেস করেছি। রফিকুলসহ মোট তিনজনকে বদলি করা হয়েছে। আমি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরাবর চিঠি দিয়েছি।

একটি সূত্রের মাধ্যমে খবর পেয়ে নি¤œমানের চাল জব্দ করা হয় বলে জানান, দুর্গাপুরের ইউএনও সাবরিনা শারমিন। তিনি বলেন, ‘আমি দুই দিন আকস্মিক খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করি। কিন্তু চাল অন্য জায়গায় রাখায় শনাক্ত করতে ব্যর্থ হই। ২৬ আগস্ট আমি আবারও আকস্মিক পরিদর্শনে যাই এবং নিম্নমানের চাল জব্দ করি। তদন্ত কমিটি এর সত্যতা পাই। এ পর্যন্ত ৮০ মেট্রিক টন নিম্নমানের চাল শনাক্ত করে খাদ্য বিভাগকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই চালের সরকারি মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা।’