শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

‘অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের’ অভিযোগ: মার্কিন নাগরিক এনায়েত রিমান্ডে

WP Import ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৯:৫৮ অপরাহ্ন জাতীয়
WP Import ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৯:৫৮ অপরাহ্ন
‘অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের’ অভিযোগ: মার্কিন নাগরিক এনায়েত রিমান্ডে
‘অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের’ অভিযোগ: মার্কিন নাগরিক এনায়েত রিমান্ডে

আদালত চত্বরে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী

সোনার দেশ ডেস্ক:


অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাতে অন্য দেশের এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরীকে (৫৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমানের আদালত উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।
আজ এনায়েতকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার উপপরিদর্শক আবু হানিফ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর মিন্টো রোডের মন্ত্রিপাড়া এলাকায় প্রাডো গাড়িতে আরোহণ করে সন্দেহজনক চলাচল করতে দেখা যায় আসামি এনায়েত করিম চৌধুরীকে। এ সময় তার গাড়ি থামানো হয় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে না পারায় পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তার কাছে প্রাপ্ত ২টি আইফোন জব্দ করা হয়। প্রাথমিকভাবে তার ফোন বিশ্লেষণ করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এনায়েত বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক। গত ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে নিউ ইয়র্ক থেকে কাতার এয়ারওয়েজে করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে এনায়েত আরও জানান, তিনি বিশেষ একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার চুক্তিভিত্তিক এজেন্ট। বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার খুব নাজুক অবস্থায় আছে এবং সেনাবাহিনীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তিনি বর্তমান সরকারকে পরিবর্তন করে নতুন জাতীয় সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নিমিত্তে কাজ করার জন্য বাংলাদেশে এসেছেন বলে জানান।

তিনি গত ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওতে অবস্থান করেন। পরবর্তীতে গুলশানের বর্তমান ঠিকানায় অবস্থান করতে থাকেন। ইতোমধ্যে তিনি সরকারি উচ্চ ও নীতি নির্ধারক পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এবং বিভিন্ন বাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা, ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন বলে জানান। মার্কিন নাগরিক এনায়েত আরও জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আমেরিকান সরকার হতাশ।

আগামী ২১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় রহিত করবেন বলে জানান আসামি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে তখন সেনাবাহিনী সমর্থিত নতুন জাতীয় সরকার অথবা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে। নতুন এই সরকারে কারা অংশগ্রহণ করবেন এবং সরকার প্রধান কে হবেন তা আমেরিকা নির্ধারণ করে দেবে বলে তিনি জানান। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটের আলোকে সরকারি ও বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বর্তমান অবস্থান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের তথ্য সংগ্রহ করে তাকে নিয়ন্ত্রিত গোয়েন্দা সংস্থার কাছে হস্তান্তর করতেন বলে জানান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামি এনায়েত করিম চৌধুরী বর্তমানে বাংলাদেশের বৈধ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার জন্য অন্য দেশের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশে এসে জননিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত আছেন, যা ধর্তব্য অপরাধ।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন