বর্ধিত হচ্ছে আমের মৌসুম

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বর্ধিত হচ্ছে আমের মৌসুম বা সময়কাল। সারাবছর মিলছে বারি-৪, রাবি-১১, কাটিমন, গৌরমতি জাতের আম। আমবাগান আর নির্দিষ্ট মৌসুমের আপেক্ষায় থাকছে না। প্রযুক্তির কল্যাণে এখন প্রায় সারা বছর আম পাওয়া যাচ্ছে। ভোক্তা চাইলে বছরের যেকোন সময় আমের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেন।
কৃষি অফিস সূত্র জানাচ্ছে- ‘সারাবছর পাওয়া যাচ্ছে এমন আম আরও চাষের জন্য চাষিদের নিয়ে কাজ করছেন তারা। এছাড়া আমের বাজার চড়া থাকায় দাম পেয়ে খুশি চাষিরা।’ তবে দাম বেশি হওয়ায় কারণে এ সময় নি¤œ ও মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে এই আম।
জানা গেছে- রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার বেশি কিছু উপজেলায় এসব জাতের আমের চাষ হচ্ছে। তবে তুলনামূলক এই জেলাগুলোতে বেশি কাটিমন আমের চাষ হচ্ছে। এর বাইরে অন্য জেলাগুলোতে বাণিজিকভাবে সারাবছর পাওয়া যাবে এমন আমের চাষ তেমন হচ্ছে না। তবে কিছুকিছু জেলার উপজেলায় বারি-৪, বারি-১১, কাটিমন জাতের আম চাষ হচ্ছে। আগামিতে আরও আমের চাষ বৃদ্ধির কথা বলছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
জানা গেছে- কানসাট আম বাজারে রোববার (১৪ সেপ্টম্বর) কাটিমন ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা মণ দরে কেনা-বেচা হয়েছে। এছাড়া গৌড়মতি আম ৬ থেকে ৭ হাজার ও আশ্বিনা আম বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা মণ দরে। অপরদিকে, নওগাঁয় কাটিমন জাতের (বড়) আম বিক্রি হচ্ছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা মণ দরে। এছাড়া রাজশাহীতে খুচরায় কাটিমন বিক্রি হচ্ছে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা মণ দরে।
শুক্রবার (১২ সেপ্টম্বর) নগরীর শিরোইল ঢাকা বাস টার্মিনাল এলাকায় পসরা সাজিয়ে আম বিক্রি করতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। শুধু শিরোইল নয়- ভদ্রা মোড়, বিনোদপুর বাজার, সাহেববাজার, শালবাগান বাজার এলাকার ফলের দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে কাটিমন জাতের আম। ব্যবসায়ীরা বলছেন- বেশির ভাগ আম চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন বাগান থেকে সংগ্রহ করে রাজশাহীর বাজারে বিক্রির জন্য আনা হয়।
ক্রেতা রজব আলী বলেন- দেশীয় আমের মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। প্রচলিত জাতের আমের জন্য আগামী মৌসুম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু রাজশাহীর বাজারে বর্তমান সময়ে কাটিমন আম পাওয়া যাচ্ছে। দেখতে সুন্দর, আকারে বেশ বড় ও সুস্বাদু কাটিমন বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি বিক্রি ২৬০ টাকা দরে।
সজিব ইসলাম বলেন, ভরা মৌসুমে আমের দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা কেজি গেছে। কিন্তু এখন আমের দাম ২৫০ টাকার উপরে। অল্প আয়ের মানুষদের এতো দামে আম কিনে খেতে কষ্ট হবে। তার পরেও অনেকেই কিনছেন।
শালবাগান এলাকার ফল ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন বলেন, ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে কাটিমন আম। তবে ক্রেতা কম, তাই তুলনামূলক অল্প বিক্রি হচ্ছে।
চাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগে কাটিমন আমের তেমন কদর ছিল না। কিন্তু নাবি জাত হওয়ায় এবং ব্রান্ডিং জাতের আম না থাকায় আশ্বিনা আমের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। অতিরিক্ত খরচ করে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে চাষ করা হচ্ছে আশ্বিনা আম। কাটিমন বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা মণ দরে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ম্যাংগো ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আহসান হাবিব বলেন, এখনো কানসার্ট বাজারে ভরপুর আম আম বেচাকেনা চলছে। তবে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় আমের দাম কমে এসেছে। তাই চাষিদের বাঁচাতে সরকারি প্রণোদনা প্রয়োজন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, দাম ভালো পাওয়ায় নাবি জাত আশ্বিনা ও কাটিমন আমে নতুন করে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার টন। যার বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা।
এ বিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ছালমা খাতুন বলেন- রাজশাহী জেলায় ৯০ হেক্টর জমিতে কাটিমন আমের চাষ হয়েছে। বছর বছর বাড়ছে এই আমের চাষ। চাষিরাও কাটিমন আম চাষ করে ভালো টাকা পাচ্ছেন। এই আমের গাছের বৈশিষ্ট হচ্ছে সব সময় মুকুল দেওয়ার ক্ষমতা। তাই পরিচর্যার মাধ্যমে এই আমের মুকুল গাছে টেকানো সম্ভব। ফলে সারা বছর আম পাওয়া সম্ভব।