রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

ঋণের দায়ে চারজনের মৃত্যু, সেই মিনারুলের বাড়িতে হলো ধারের টাকায় চল্লিশা

WP Import ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:২৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:২৮ অপরাহ্ন
ঋণের দায়ে চারজনের মৃত্যু, সেই মিনারুলের বাড়িতে হলো ধারের টাকায় চল্লিশা
ঋণের দায়ে চারজনের মৃত্যু, সেই মিনারুলের বাড়িতে হলো ধারের টাকায় চল্লিশা

নিজস্ব প্রতিবেদক:


ঋণের বোঝা টানতে না পেড়ে আত্মহত্যা করেন মিনারুল ইসলাম (৩৫)। আত্মহত্যার আগে তার আগে স্ত্রী মনিরা খাতুন (৩০), ছেলে মাহিম (১৪) ও মেয়ে মিথিলাকে (৩) হত্যা করেন মিনারুল। এই মিনারুলের বাড়িতে এবার ঋণ করে হলো চল্লিশা (ফয়তা)।
এরআগে গত ১৪ আগস্ট দিবাগত রাতে রাজশাহীর পবা উপজেলার বামনশিকড় গ্রামে তাদের মৃত্যু হয়। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বামনশিকড় গ্রামে চল্লিশায় প্রায় ১ হাজার মানুষকে মুড়িঘণ্ট দিয়ে ভাত খাওয়ানো হয়েছে।

মৃত্যুর আগে মিনারুল চিরকুটে লিখে গিয়েছেন, ‘আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে।’ সেই মিনারুল এবং তার স্ত্রী-সন্তানদের জন্য চল্লিশা খাওয়ালেন তার পরিবার। তা-ও আবার ঋণের টাকায়। চল্লিশায় আমন্ত্রণ ছিল সমাজের প্রায় ১ হাজার মানুষ। মিনারুলের বাবা রুস্তম আলী বলেন- ‘জমি বিক্রি করে এই ঋণ শোধ করব।’

জানা গেছে- শনিবার দুপুরে বামনশিকড় গ্রামে রুস্তম আলীর বাড়ির সামনে ও পেছনে দুটি প্যান্ডেল করা হয়েছে। প্যান্ডেলে বসে তারা খাচ্ছেন। ভাতের সঙ্গে ছিল ডাল ও মুড়িঘণ্ট। ভ্যানে চড়ে দূরের গ্রাম থেকে আসছেন আত্মীয়স্বজনেরা। আসছেন পুরো গ্রামের মানুষও।

রুস্তম আলী বলেন, এই অনুষ্ঠানকে কেউ বলে চল্লিশা, কেউ বলে ফয়তা। বাপ-দাদার আমল থেকেই দেখে আসছি। সমাজের মানুষ ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে এটা করতে হয়। যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী করে। আমি গরিব মানুষ-মাংস করতে পারিনি। মাছ দিয়ে মুড়িঘণ্ট আর ডাল করেছি। আশপাশের মানুষজন বলছিল চারজন মরার কারণে বাড়িটা ভারী ভারী লাগছিল। ছোট ছিলেপিলেরা ভয় পাচ্ছিল। তাই অনুষ্ঠানটা করলাম, যাতে ভয় ভাঙে। বাড়ি যেন পাতলা হয়। এ কারণে দুপুরে দোয়া হয়েছে। খাওয়াদাওয়া প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হলো। আত্মীয়স্বজন ও সমাজের মিলিয়ে ১ হাজার মানুষের আয়োজন করা হয়েছিল।
টাকা জোগাড় হলো কীভাবে জানতে চাইলে রুস্তম আলী বললেন, সবই ধারদেনা। আমার তো জমানো টাকা নাই। ১৫-১৬ কাঠা জমি আছে। এক কাঠা বেচব, বেচে ধার শোধ করব। তা ছাড়া তো আর কোনো উপায় নাই।

পবার পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাঈদ আলী মুর্শেদ বলেন, শুনেছি এমন আয়োজন করার কথা। অনকে গিয়েছিল। ইসলামের দৃষ্টিতে এটা নাই। কিন্তু কেউ মারা গেলে এটা করে। চল্লিশা আমাদের এলাকার রেওয়াজ।