রাকসু নির্বাচনে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনাসহ ১১ দাবি ছাত্রদলসহ দুই প্যানেলের

রাবি প্রতিবেদক:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনাসহ ১১ দফা দাবি জানিয়েছে ২টি প্যানেল। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট সংলগ্ন আমতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানায় তাঁরা।
প্যানেল দুইটি হলো- ছাত্রদল সমর্থিত আবির-জীবন-এষা পরিষদ এবং ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ছাত্র ফেডারেশন সমর্থিত রাকসু ফর র্যাডিক্যাল চেইন্জ প্যানেল।
তাদের দাবিগুলো হলো- স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের ব্যবস্থা করা এবং ভোট গ্রহণের শুরুতে সাংবাদিক ও প্রার্থীর এজেন্টদের সামনে ব্যালট বাক্স উন্মোচন করা; ভোটারদের আঙ্গুলে উচ্চমানসম্পন্ন অমোচনীয় কালির ব্যবস্থা করা যাতে কালি মুছে না যায়; আগামী এক দিনের মধ্যে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রকাশ করা; ভোট গণনার স্বচ্ছতার জন্য ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনা করা; প্রার্থীদের নির্বাচনী খরচ নির্দিষ্ট করা; সকল প্যানেল বা প্রার্থীর পোস্টারের সংখ্যা নির্দিষ্ট করা এবং নির্বাচনী ব্যালট ছাপানো, বাঁধানো, নাম্বারিং করা পর্যন্ত এজেন্টের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
এছাড়া পর্যাপ্ত সংখ্যক বুথ ব্যবস্থা করা; ডিজিটাল বোর্ডে ভোটার নাম্বার সহ প্রকাশনা চলমান রাখা; সাইবার বুলিং সেল কার্যকর করে এর প্রয়োগ পদ্ধতির একটা রূপরেখা দিতে হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীক সকল গ্রুপ ও পেজকে নিষিদ্ধ করতে হবে। কারণ এই গ্রুপ ও পেজ থেকে সাইবার বুলিং, স্লাটশেমিংসহ নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা, প্রার্থীদের নিয়ে মিথ্যাচার করা হয়। যা দন্ডনীয় অপরাধ। বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নিউজ ২৪ স্পষ্টত এধরণের গর্হিত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ভোটের দিন ভোটারদের ব্যালট লিস্ট ধরিয়ে দেয়া যাবে না।
আশঙ্কার কথা তুলে ধরে তাঁরা বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের দুর্বলতাও প্রকাশ পেয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই দুর্বলতা আমাদেরকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্যানেলদের মধ্য থেকে প্রশ্ন উঠেছে। ছাত্র শিবির কোন রকম আচরণ বিধির ন্যূনতম তোয়াক্কা করছে না। তারা হলে হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতর বিলি, হলে পানির ট্যাংক বসানো, খিচুরি পার্টি, মুড়ি পার্টি সহ শিক্ষার্থীদের নানান উপঢৌকনের মাধ্যমে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
তাঁরা আরও বলেন, আমরা দেখছি, “টাকা যার, ভোট তার” নীতির প্রবর্তন হচ্ছে। এটা সুস্পষ্ট আচরণ বিধি লঙ্ঘন। আমরা আমাদের জায়গা থেকে বহুবার অভিযোগ দিলেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এভাবে চলতে থাকলে রাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন সম্ভব হবেনা। ইতোমধ্যে আমরা লক্ষ্য করেছি হলে ব্যালট নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে ছাত্র শিবিরকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়েছে যা সম্পূর্ণ পক্ষপাতমূলক আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
সংবাদ সম্মেলনে প্যানেল দুইটির ভিপি, জিএস, এজিএস-সহ অন্যান্য পদপ্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্যানেল ঘোষণার সময় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনার দাবি জানিয়েছিল রাবি শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলন সমর্থিত সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেল।