রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

পিএইচডি ও পোস্ট-ডক ছাড়া স্থায়ী নিয়োগ বন্ধ করার সময় এখনো আসেনি : রাবি উপাচার্য

WP Import ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:৩৯ অপরাহ্ন
WP Import ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:৩৯ অপরাহ্ন

রাবি প্রতিবেদক:


শিক্ষক নিয়োগের মানদন্ড বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলে পিএইচডি এবং পোস্ট-ডক ছাড়া স্থায়ী নিয়োগ বন্ধ করা যেতো। সেই সময় এখনো আসেনি। আপাতত আমাদের চেষ্টা, অযোগ্য একজনও যেন নিয়োগ না পায়।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
উপাচার্য বলেন, বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া কেমন হওয়া উচিত, সেই সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল। কিন্তু আমরা যে প্রেক্ষাপটে কাজ করি, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলে পিএইচডি এবং পোস্ট-ডক ছাড়া স্থায়ী নিয়োগ বন্ধ করা যেতো। সেই সময় এখনো আসেনি। আপাতত আমাদের চেষ্টা, অযোগ্য একজনও যেন নিয়োগ না পায়। আমরা চেষ্টা করছি। কী করছি, কতটুকু করছি সেটা ভবিষ্যৎ বলে দেবে।

তিনি আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় নষ্ট হয়েছে বিভিন্ন দেনদরবার এবং লেনদেনকে সামনে রেখে দুটো পদের জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে ছয়/সাতটি নিয়োগ দিয়ে। এমনটা বারবার হয়েছে। এটা আমরা করছি না। বরং যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে, বিজ্ঞাপনে উল্লিখিত সংখ্যা আমরা পূর্ণ করছি না। চারটির জন্য বিজ্ঞাপন, চারজন ভালো ক্যান্ডিডেট পাওয়া না গেলে, তিনজন নেওয়া হবে। তিনজন পাওয়া না গেলে, দুজন। কাউকে পাওয়া না গেলে, কেউ নয়। সংখ্যা পূর্ণ করার কোনো দায় বর্তমান প্রশাসনের নেই।

বর্তমান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগের জন্য যুগোপযোগী যোগ্যতা নির্ধারণ করে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। তার ভিত্তিতে বর্তমানে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিয়ে আসার চেষ্টা আমরা করছি। এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত পরিক্ষার একটা চর্চা শুরু হয়েছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, কোন কোন বিভাগে প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। লম্বা সময় নিয়ে মৌখিক যাচাই-বাছাই সম্ভব নয়। একটা ইনিশিয়াল স্ক্রিনিং প্রয়োজন। লিখিত পরিক্ষার মাধ্যমে এটা করার একটা চেষ্টা করা যায়। এই লিখিত পরিক্ষা যেনতেন প্রকারে হলে চলবে না।

তিনি বলেন, ধরুন লিখিত পরীক্ষার মোট নম্বর ৫০। এই ধরনের প্রশ্নে যারা ১৪/১৫ তুলতে পারবেন না, তাদের রেজাল্ট, পাবলিকেশন, ডিগ্রি যাই থাকুক না কেন, তাদের আমরা পরবর্তী ধাপের জন্য উপযুক্ত মনে করিনি। লিখিত পরীক্ষা থেকে আমরা বিজ্ঞাপিত পদের মোটামুটি তিনগুন বাছাই করি। তবে শেষ যে স্কোর বিবেচিত হয়, সেই স্কোর প্রাপ্ত সকলেই মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাক পান। নির্বাচনী বোর্ডের সদস্যগণ একাধিক প্রশ্ন করেন, সেই প্রশ্নগুলো থেকে বোর্ডের সভাপতি প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রশ্ন সিলেক্ট করেন। বোর্ডের পঞ্চম এবং শেষ সদস্য পরীক্ষার খাতায় কোডিং করেন। তিনি খাতার মুল্যায়নে অংশ নেন না। সংশ্লিষ্ট প্রশ্নকর্তাগণ প্রত্যেকে কোডিংকৃত উত্তরপত্রের কেবল তাঁর সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তরের মূল্যায়ন করেন। সবার নম্বর যোগ করে চূড়ান্ত নম্বর প্রস্তুত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, মৌখিক পরীক্ষায় বিষয়ের বাইরে কোনো প্রশ্ন করা হয় না। কেবল বিষয়, থিসিস, পাবলিকেশন এই তিনটি হচ্ছে প্রশ্নের জায়গা। এর বাইরে কোনো আলাপ নেই। সময়ের কোন সীমা নেই, যাচাই করতে যতটুকু সময় নিতে হয়, আমরা নিই। মৌখিক পরীক্ষায় পাঁচজন বোর্ড মেম্বার যার যার মত মার্কিং করেন। মার্কিং-এর সময় কোনো ধরনের আলাপ আলোচনার সুযোগ নেই। সব শেষে লিখিত, মৌখিক, রেজাল্ট, উচ্চতর ডিগ্রি এবং পাবলিকেশন দেখে নিয়োগের সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে রাবি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মাঈন উদ্দীন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ইফতেখারুল আলম মাসউদ, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতনরা উপস্থিত ছিলেন।