রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

রাবিতে বামদের মধ্যেও শিবির ঢুকে গেছে : ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা, মন্তব্য করায় প্রতিবাদ ছাত্র ফ্রন্টের

WP Import ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:৩৬ অপরাহ্ন
WP Import ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:৩৬ অপরাহ্ন

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান

রাবি প্রতিবেদক:


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান বলেছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যেও শিবির অনুপ্রবেশ করেছে। বাংলাদেশে যত জনসংখ্যা আছে, তার চেয়েও শিবিরের বট আইডি বেশি।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
শিবির প্রসঙ্গে ছাত্রদের কেন্দ্রীয় এই নেতা বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি ক্যাম্পাস যেখানে বামদের মধ্যেও শিবির ঢুকে গেছে। তারা অন্য সংগঠনের পদ নিবে কিন্তু তারা শিবির নেতা। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে এমন নজির নেই। ৫ আগস্টের যত নারী বুলিংয়ের শিকার হয়েছে, কমেন্ট সেকশন থেকে তাদের আইডির ঘেটে দেখলেই বোঝা যায় তারা কোন আদর্শে বিশ্বাসী। বাংলাদেশে যত জনসংখ্যা আছে তার থেকেও শিবিরের বট আইডির সংখ্যা বেশি।

ছাত্রদলের মধ্যে শিবিরের অনুপ্রবেশ ঘটেছে কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রকাশ্যে রাজনীতি করা যাবে না, এমন রাজনৈতিক ইশতেহার যদি তাদের না থাকতো, তাহলে বোঝা যেত তাদের সাথে কত সংখ্যক রাজনীতি করছে। যেহেতু নেই, সেহেতু তারা বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। যার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি তাকেও শিবির সুকৌশলে অনুপ্রবেশ করিয়েছিল কি-না সেই শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আমানউল্লাহ আমান বলেন, কোনো এলাকায় শিবিরের ১০ জন সদস্য থাকলেও, সেই এলাকার শিবিরের সভাপতি যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পোস্ট দেয়, তাহলে সেখানে ১০ হাজার লোক কমেন্ট করে। আমার প্রশ্ন হলো এই লোকগুলো কি জান্নাত থেকে আসে? নাকি জাহান্নাম থেকে ছুটি নিয়ে আসে? আমরা জানি না। তাই আমি তাদের আহ্বান জানাই আপনাদের আসল জনবল সামনে নিয়ে আসুন। আড়াল থেকে লুকিয়ে বক্তব্য দেবেন না। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এখন এমন রাজনীতি আর গ্রহণ করছে না।

ছেলেদের ১১টি হলে ছাত্রদলের নতুন কমিটি দেওয়া হলেও মেয়েদের ৬টি হলে কমিটি দেওয়া হয়নি। এটা সাংগঠনিক দূর্বলতা কি না জানতে চাইলে আমানুল্লাহ আমান বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একটিমাত্র ক্যাম্পাস, যেটি দেশের অন্যান্য ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক সংষ্কৃতি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে একটি বিশেষ সংগঠন দুই তিনটি লেয়ারে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। এই ক্যাম্পাসের ৬টি মেয়েদের হলের প্রভোষ্টরা ইসলামী ছাত্রী সংস্থায় যোগ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে থাকেন।

তিনি বলেন, কমিটি দেওয়ার সময় মেয়েদের হলগুলোতেও যথেষ্ঠ সংখ্যক নেতৃত্ব ও কর্মী আমাদের ছিলো। কিন্তু, আমরা লক্ষ্য করলাম, যারা ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েছে তাদের বুলিং করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমাদের বোনেরা সবাই রিস্ক নিতে পারে না। যারা সম্মুখ সারিতে মিছিল মিটিং করেছে এই সাহসটুকু বুলিংয়ের কারনে সবাই পায় না, সবার পরিবার থেকেও অনুমতি দেওয়া হয় না। যার কারনে আমরা এখনো কমিটি দেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতেও আমার যেসকল বোনেরা লড়ছে তারা প্রকৃত অর্থে সাহসী। আমি মনে করি, দেশের সবচেয়ে সাহসী নারীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল করে। বুলিংয়ের কারনে অন্যরা সাহস পাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাবির জুলাই ৩৬ হলে রাত ১১টার পর প্রবেশ করায় ৯১ ছাত্রীকে হল প্রশাসন প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে ডেকে পাঠিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদলের শাহ মখ্দুম হল শাখার সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান মিলন ওই ছাত্রীদের নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করে একটি পোস্টের কমেন্টে লিখেছিলেন ‘এগুলো ছাত্রী নয়, এগুলো বিনা পারিশ্রমিক যৌনকর্মী’।
এই ঘটনায় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে মিলনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদ স্থগিত করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির সদস্য ছিলেন, শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক।

ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তদন্ত কমিটির সদস্যরা অভিযুক্ত মিলনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব না দিয়ে ফোন বন্ধ করে দেন। এতে প্রমাণিত হয় যে, উক্ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই করেছেন। এর প্রেক্ষিতে তাকে ছাত্রদলের সহ-সভাপতির পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাবি শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে মতিহার থানায় আনিসুর রহমান মিলনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এরপর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি গণমাধ্যমে জানানো হয়।

প্রতিবাদ ছাত্র ফ্রন্টের
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বামদের মধ্যেও শিবির ঢুকে গেছে বলে মন্তব্য করায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমানের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে রাবি’র বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর জোট গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের অন্যতম শরীক দল সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদুল ইসলাম ভুইয়া রাতুল এই প্রতিবাদলিপি পাঠান।
রাতুল বলেন, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটে এই মুহুর্তে ৬টি বাম ছাত্র সংগঠন রয়েছে। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি আমাদের সংগঠন সমূহের কোনো কর্মী শিবির সংশ্লিষ্ট নয়। ছাত্রদল নেতা ঢালাওভাবে আপবাদ দিয়ে আমাদের ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ বিরোধী অতীত এবং বর্তমান লড়াই সংগ্রামের অমর্যাদা করলো। কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ, তা স্পষ্ট করতে হবে। অন্যথায় এমন অমর্যাদাকর অভিযোগ থেকে সরে আসতে হবে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান বলেছিলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যেও শিবির অনুপ্রবেশ করেছে।