রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

রাজশাহীতে নয় মামলার হাসিনাসহ আসামি ৫২৯, অভিযোগপত্র দাখিল

WP Import ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৩০ অপরাহ্ন
WP Import ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৩০ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে জুলাই আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা দুটি হত্যাসহ মোট ৯টি মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। মামলাগুলো তদন্ত করেছে রাজশাহী নগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এসব মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন মোট ৫২৯ জন।

জুলাই আন্দোলনে রাজশাহীতে দুজন শহীদ হন। এর মধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক আলী রায়হান ও বরেন্দ্র বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাকিব আঞ্জুম। সাকিব আঞ্জুম ৫ আগস্ট সংঘর্ষে চলাকালে মারা যান। ঘটনার তিনদিন পর মারা যান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আলী রায়হান।
এ ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, রাজশাহীর সাবেক সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ ২৪৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অন্য সাতটি মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন আরও ২৮৫ জন। সবমিলিয়ে অভিযুক্ত হয়েছেন ৫২৯ জন।

এছাড়াও মামলা দুটির আসামি করা হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম রুবেল, চার নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি বাপ্পি চৌধুরী রনি , মহিদুল ইসলাম মোস্তফা, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাবেক প্যানেল মেয়র ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আব্দুল মোমিন, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও শাহমুখদুম থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল হক সুমন, ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী, ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বাবু, ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিজামুল আযিম, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন আনার, ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরমান হোসেন, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহাদত হোসেন সাহু।

এছাড়া উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইসতিয়াক আহমেদ লিমন, মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌরিদ আল মাসুদ রনি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুজ্জামান শফিক, মহানগর যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদ আক্তার নাহান, যুবলীগ নেতা জহিরুল হক রুবেল, মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জেডু সরকার, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাজীব, ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি বাপ্পী চৌধুরী রনি, রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রাশিক দত্ত, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রকি কুমার ঘোষ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আল গালিব, মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. সিরাজুম মুবিন সবুজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, বোয়ালিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিকুর রহমান কালু।

গেল কয়েকদিনে মামলাগুলোর অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের আদালত পরিদর্শক আবদুর রফিক। তিনি বলেন, কয়েকদিন ধরেই একটা-দুটো করে মামলার চার্জশিট পাচ্ছি। তবে আজ কোনো চার্জশিট আসেনি। কয়েকদিনে মোট ৯টি মামলার চার্জশিট এসেছে। সংশ্লিষ্ট আদালতে সেগুলো দাখিল করা হয়েছে।

আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান জানান, শহীদ সাকিব আনজুম হত্যা মামলায় ১১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর শহীদ আলী রায়হান হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন ১২৭ জন। সবমিলিয়ে দুই হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন ২৪৪ জন। অন্য ৭ মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন ২৮৫ জন। তদন্ত শেষে মোট ৯টি মামলায় ৫২৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মামলাগুলো তদন্তে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করেছি। ৯টি মামলার প্রত্যেকটির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শী, সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল প্রমাণসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

তিনি জানান, হত্যা ছাড়াও হামলা, ভাঙচুর, বিস্ফোরক ও অস্ত্র আইনে আসামিদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদেরকেই অভিযুক্ত করা হয়েছে। আলী রায়হান হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় আসামি গ্রেফতার হয়েছে সাতজন। তদন্তে গ্রেফতার ৩২ জনসহ মোট ৩৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও শহীদ সাকিব আনজুম হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় পাঁচজন এবং তদন্তে প্রাপ্ত ২৮ জনসহ মোট ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আলী আশরাফ মাসুম বলেন, আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে বেশ কিছু মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এগুলো ধারা অনুযায়ী বিভিন্ন আদালতে যাবে। তবে পুলিশ যে অভিযোগপত্র দিচ্ছে বা তার যে বিশ্লেষণগুলো দিচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে অভিযোগগুলো প্রমাণ করা যাবে।