সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

ঈশ্বরদীতে অনুমোদন ছাড়াই ৩ হাজার গাছ কেটে সাবাড়

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫২ অপরাহ্ন
ঈশ্বরদীতে অনুমোদন ছাড়াই ৩ হাজার গাছ কেটে সাবাড়

পাবনার ঈশ্বরদীতে নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের আওতাধীন মুলাডুলি ইক্ষু খামারের জমির তিন হাজারেরও বেশি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিলাম বিজ্ঞপ্তি কিংবা প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই এসব গাছ কাটা হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছেন। 


বুধবার (৭ জানুয়ারি) খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর পানাসি (পাবনা-নাটোর-সিরাজগঞ্জ সেচ প্রকল্প)’র আওতায় ‘ভ্যালি ইরিগেশন’ নামের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে মুলাডুলি খামারের ক্যানালের দু’পাশে থাকা বহু বছরের পুরোনো মেহগনি, শিশু, খয়ের, রেন্টি কড়ই ও খেজুর গাছসহ ৩ হাজারেরও বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।


স্থানীয়রা জানান, সরকারি বিধি অনুযায়ী বনবিভাগ থেকে গাছের মূল্য নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং নিলাম বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গাছ বিক্রি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি। এ বিষয়ে মুলাডুলি খামারের ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম আমিন বলেন, ‘কিছু গাছ কাটা হয়েছে এবং সেগুলো নর্থবেঙ্গল সুগার মিলে আগুন হিটের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, ‘ভ্যালি ইরিগেশন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকাবাসী, সুগার মিল ও দেশ উপকৃত হবে।’


পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সবুজ পৃথিবী’ ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের প্রয়োজনের তুলনায় যে পরিমাণ গাছ কাটা হয়েছে তা অযৌক্তিক ও অসঙ্গত। এতে খামারের প্রাকৃতিক পরিবেশ পুরোপুরি বদলে গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের ব্যাপক বৃক্ষ নিধনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অনুমোদন বাধ্যতামূলক। অনুমোদন ছাড়া গাছ কাটা হলে তা পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।


এ বিষয়ে নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের জিএম (প্রশাসন) আনিসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে তার কার্যালয় তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। একইভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফরিদ হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলে প্রথমে তিনি অনুপস্থিত বলে জানানো হয়। পরে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে খামার প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। মুলাডুলি ইক্ষু খামারের ব্যবস্থাপক বাকী বিল্লাহর কার্যালয়ে গেলে সেখানে তালা ঝুলতে দেখা যায়।


তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাকে পাওয়া যায়নি। ক্ষুদে বার্তা দিয়েও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। বিএডিসির ঈশ্বরদী জোনের সহকারী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্রসেচ) সুমন চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আপনারা জেলা প্রধান কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলুন।’ বিএডিসি পাবনা’র নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে। এ ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণ ও পরিবেশবাদীরা ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।