শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

নারীবিদ্বেষী মন্তব্যে উত্তপ্ত রাজনীতি, জামায়াত আমিরের প্রতি ক্ষোভ

সোনার দেশ ডেস্ক ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৪১ পূর্বাহ্ন রাজনীতি
সোনার দেশ ডেস্ক ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৪১ পূর্বাহ্ন
নারীবিদ্বেষী মন্তব্যে উত্তপ্ত রাজনীতি, জামায়াত আমিরের প্রতি ক্ষোভ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্টের একটি পোস্টে নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে আজও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে জামায়াত আমিরকে অবিলম্বে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি কেউ কেউ তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবিও তোলেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এসব কর্মসূচিকে ‘দেউলিয়া রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।


সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে জামায়াত আমিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীরা। এ সময় অনেকে ঝাড়ু প্রদর্শন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।


জামায়াত আমিরকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, নারীদের নিয়ে জামায়াতের আমিরের কটূক্তিতে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তিনি তার স্ত্রী ও মাকে অসম্মান করতে পারেন না। এ বিষয়ে জামায়াতের নারী নেত্রীদেরও প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। কারণ, তিনি সমগ্র বাংলাদেশের নারী সমাজকে অপমান করেছেন। তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী একাত্তরেও নারীদের নির্যাতন করেছে।


জামায়াত আমিরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, নারীদের প্রতি কটূক্তির দায়ে জামায়াতের আমিরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। না হলে নারী সমাজের মনে যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ব্যালটেই এর জবাব দেওয়া হবে। দলের আমিরের এ ধরনের অবমাননাকর বক্তব্যের পরও জামায়াতের নারী নেত্রীদের নীরবতা লজ্জাজনক।


‘চট্টগ্রামের সর্বস্তরের নারী সমাজ’-এর ব্যানারে জামায়াত আমিরকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মানববন্ধন করা হয়। এতে অংশ নেওয়া নারী নেত্রীরা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে করা ওই মন্তব্যকে ‘আপত্তিকর’ ও ‘নারীর মর্যাদাহানিকর’ বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, কর্মজীবী নারীদের অবমাননাকর বক্তব্য কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


এছাড়া জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাম রাজনৈতিক দলগুলোর জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। জামায়াত আমিরের নারী-বিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তার প্রার্থিতা বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি এক বিবৃতিতে জোর দাবি জানান তারা।


বিবৃতিদাতারা হলেন— গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা, বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ক্কাফী রতন, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী এবং জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা।


জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নারীদের নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে ‘অবমাননাকর’ ও ‘আপত্তিজনক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত ১০ জন নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী। তারা হলেন— প্রগতি বর্মণ তমা (রংপুর-৪), রাহেলা খাতুন (গাইবান্ধা-৫), তৌফিকা দেওয়ান লিজা (জয়পুরহাট-১), শাহিনুর আক্তার সুমি (ঢাকা-৫), সীমা দত্ত (ঢাকা-৭), তসলিমা আক্তার বিউটি (গাজীপুর-১), সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী (মৌলভীবাজার-২), মুনতাহার প্রীতি (নোয়াখালী-৫), আসমা আক্তার (চট্টগ্রাম-১০) ও দীপা মজুমদার (চট্টগ্রাম-১১)।


এদিকে আজ এক সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশকে সামনে এগোতে দিতে চায় না জামায়াতে ইসলামী। তারা দেশটাকে আফগানিস্তান বানাতে চায়। তারা দেশটাকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়। তারা নারীদের কাজ করতে দিতে চায় না। তারা চায় মেয়েরা যেন ঘরে বসে থাকে।


জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টের পোস্টের প্রসঙ্গ তুলে নির্বাচনি সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নারীদের নিয়ে আপত্তিকর কথা বলার পর যখন তারা দেখলো বাংলাদেশের সব মানুষ তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করেছে, তখন তারা বললো তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। কারণ, সেই বক্তব্য দেওয়ার পরও তারা অনেক বক্তব্য দিয়েছে। তাহলে কী দাঁড়ালো— তারা সমগ্র জাতির সামনে জলজ্যান্ত মিথ্যা কথা বলছে।


সমাবেশে জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান আরও বলেন, আমরা কষ্টের সঙ্গে খেয়াল করলাম, একটি রাজনৈতিক দল ৫ আগস্টের পর থেকে এ দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী, অর্থাৎ নারীদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলা শুরু করেছে। বিএনপির পরিকল্পনা হলো, নারী-পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়বে।


তিনি বলেন, নারীদের শিক্ষিত করতে বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষা ফ্রি করেছিলেন। এবার খালেদা জিয়ার দল সরকার গঠন করতে পারলে মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।


এদিকে সমালোচনার মুখেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ নির্বাচনি সমাবেশে তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পথ খুঁজে পাবে। বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করবে না।


তিনি বলেন, চব্বিশ না হলে ছাব্বিশ হতো না। যারা চব্বিশকে স্বীকার করে তাদের জন্যই ছাব্বিশ এসেছে। আর যারা চব্বিশকে স্বীকার করে না, তাদের জন্য ইনশাআল্লাহ লালকার্ড।


অপরদিকে জামায়াত আমিরকে ক্ষমা চাইতে হবে— বিএনপি নেতাকর্মীদের এমন দাবি ও ঝাড়ু মিছিলকে দেউলিয়া রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জামায়াত আমিরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। তবুও একদল ক্রমাগত অপপ্রচার চালাচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে আমাদের নারীরা এর জবাব দেবে।


তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন