সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

গোদাগাড়ীতে বিএনপির প্রার্থীর প্রচারণায় আ.লীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:২২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:২২ অপরাহ্ন
গোদাগাড়ীতে বিএনপির প্রার্থীর প্রচারণায় আ.লীগ নেতা

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা বিএনপির প্রার্থীর প্রচারণায় নেমেছেন। ধানের শীষে ভোট চাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এই আওয়ামী লীগ নেতার নাম সুনন্দন দাস। তিনি গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করেছিলেন।  


মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী সাব্বির রহমান ফেসবুকে ৫৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক সুনন্দন দাস রতন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীনের পক্ষে ভোট চাইছেন। এ সময় তিনি স্থানীয় কয়েকজনকে উদ্দেশ করে বলেন, দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এবার ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘আমাদের একটা ছাতা দরকার’, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।


ভিডিওতে সুনন্দন দাসকে বলতে শোনা যায়, এবারের নির্বাচনে শরীফ উদ্দীনকে বিজয়ী করতে গোটা গোদাগাড়ী উপজেলায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদের পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ারও অনুরোধ করেন।


এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সুনন্দন দাস বলেন, ভিডিওটি কয়েক দিন আগে মোহনপুর ইউনিয়নে প্রচারণার সময় ধারণ করা। তিনি স্বীকার করেন, মাঝে মাঝেই ধানের শীষের প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। তবে এ নিয়ে যেন তাকে বিপদে ফেলা না হয়, সে অনুরোধও জানান তিনি। কারও নির্দেশনায় প্রচারণায় নেমেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেকেই করছেন, তাই তিনিও করছেন।


ফেসবুকে ভিডিওটি পোস্ট করে সাব্বির রহমান লেখেন, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের পদ ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে এখন নিজ স্বার্থে বিএনপির জন্য ভোট চাওয়া বিশ্বাসঘাতকতা। তিনি ভবিষ্যতে আবার আওয়ামী লীগে রাজনীতি করার চেষ্টা হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন।


সুনন্দন দাস কাস্টমস বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। চাকরিজীবনে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি দলীয় পদ পান এবং শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ দেব ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যও ছিলেন। ২০২৪ সালের মে মাসে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন। পরবর্তীতে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে ওই ট্রাস্টি বোর্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।