এক টাকায় এক কেজি চাল
১ কেজি চাল ১ টাকা, ১ কেজি ছোলা ২ টাকা, ১ ডজন ডিম দেড় টাকা। ১ লিটার সয়াবিন তেল ৩ টাকা। ১টি মুরগি ৪ টাকা।
দুস্থ রোজাদারদের পাশে দাঁড়াতে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ‘১ টাকায় রোজার বাজার’র চিত্র এটি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য এ বাজারের আয়োজন করেছে। নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে নিম্নআয়ের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বাজার করেছেন। তাদের চোখে মুখে হাসি। কারণ ভিক্ষা নয় মাত্র ১ টাকা দিয়ে তারা নিজেদের পছন্দে হাজার টাকার বাজার করার সুযোগ পেয়েছেন।
এই বাজারে দেখা মিলেছে চাল-ছোলা ডাল তেল ডিম সহ ১৬ রকমের পণ! যেন একটি সুপারশপ!
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিপ্লব উদ্যানে এ বাজারের উদ্বোধন করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, মেয়রের একান্ত সহকারী জিয়াউর রহমান জিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মেয়র বলেন, অসহায় মানুষদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া সামর্থ্যবান প্রতিটি মানুষের নৈতিক ও সামাজিক কর্তব্য। বিদ্যানন্দের আজকের এই ‘এক টাকায় রোজার বাজারে’ এসে আমার মনে হচ্ছে শায়েস্তা খাঁর আমল ফিরে এসেছে।
অভাবী মানুষজন এখান থেকে ১ টাকা মূল্য পরিশোধ করে হাজার টাকার বেশি পণ্য বাছাই করার স্বাধীনতা পাচ্ছে। এই আইডিয়া প্রশংসার দাবি রাখে। বিদ্যানন্দ থেকে দেখে যদি সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসেন তাহলে এই রমজানে মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।
বিদ্যানন্দের গভর্নিং বডির পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, রমজান মাসকে বলা হয় ‘সহমর্মিতার মাস’। কেননা এক মাসের রোজা পালনের দ্বারা রোজাদার ক্ষুধার্ত মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করতে সক্ষম হন।
এর ফলে তাঁর অন্তরে আর্ত-পীড়িত ও ব্যথিত মানব-গোষ্ঠীর প্রতি সহমর্মিতা জাগে। রোজাদারের উচিত তার এই জাগ্রত সহানুভূতিকে কাজে লাগানো এবং তাদের ব্যথা উপশমে কার্যকর ভূমিকা রাখা। তা বুদ্ধি-পরামর্শ ও কায়িক সহযোগিতা এবং দান-দক্ষিণা বিভিন্নভাবেই হতে পারে। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন ও তার স্বেচ্ছাসেবী দাতারা সেই কাজটিই বছরের পর বছর করে যাচ্ছে। আজকেই এই বাজারে ৫০০ দরিদ্র পরিবার ১ টাকা দিয়ে কমপক্ষে ১ হাজার টাকার নিত্যপণ্য নিয়ে যাবেন যা তাদের এই দুঃসময়ে একটু হলেও স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ