মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬

চিনা ব্যবসায়ীর সঙ্গে গোপন বৈঠক, ক্ষমতা হারালেন পেরুর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট

সোনার দেশ ডেস্ক ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:৪৪ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:৪৪ অপরাহ্ন
চিনা ব্যবসায়ীর সঙ্গে গোপন বৈঠক, ক্ষমতা হারালেন পেরুর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট
ছবি: রয়টার্স

চিনের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে গোপন বৈঠককে ঘিরে কেলেঙ্কারির মধ্যে মেয়াদ শুরুর পর মাত্র চার মাসের মাথায় পেরুর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হোসে হেরিকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে দেশটির কংগ্রেস।

এতে প্রায় এক দশক ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দেশটিতে অষ্টমবারের মতো প্রেসিডেন্ট পরিবর্তনের ঘটনা ঘটল।

মঙ্গলবার পেরুর কংগ্রেসে হেরির বিরুদ্ধে একটি নিন্দা প্রস্তাব পেশ করার পর ১৩০ সদস্যের আইনসভায় সেটির পক্ষে ৭৫ ও বিপক্ষে ২৪ ভোট পড়ে। প্রত্যাশিত একটি সাধারণ নির্বাচনের মাত্র দুই মাস আগে অন্তর্বর্তী এ প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে সরানো হল।

রয়টার্স জানিয়েছে, অক্টোবরে পেরুর কংগ্রেস তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিনা বোলুয়ার্তেকে ক্ষমতা থেকে সরাতে একযোগে সমর্থন দিয়েছিল। দেশজুড়ে বাড়তে থাকা অপরাধ নিয়ে ক্ষুব্ধতা ও দুর্নীতি কেলেঙ্কারির মধ্যে দিনার পেছনে থাকা ডানপন্থি দলগুলো তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে তার পতন অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। দিনার কোনো ভাইস প্রেসিডেন্ট না থাকায় ওই সময়ের কংগ্রেস প্রধান হেরি আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকারের সারিতে প্রথমে ছিলেন আর এভাবেই তিনি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন।

জানুয়ারিতে অভিযোগ ওঠে হেরি গভীর রাতে হুডি ও সানগ্লাস পরে এক চাইনিজ রেস্তোরাঁয়া চিনা ব্যবসায়ী ঝিহুয়া ইয়াংয়ের সঙ্গে অঘোষিত বৈঠক করেছেন। এ ঘটনার এক ভিডিওতে দেখা যায়, হেরি হুডি পরে ওই রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করছেন। এরপর এ ধরনের বেশ কয়েকটি গোপন বৈঠকের কথা ফাঁস হয়।


এ পরিস্থিতিতে হেরির বিরুদ্ধে ওই চিনা ব্যবসায়ীর সঙ্গে অঘোষিত বৈঠকের কারণে অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়। ঝিহুয়া ইয়াং তার অনেকগুলো কোম্পানির মধ্যে একটির জন্য রাষ্ট্রীয় ছাড়ও পেয়েছিলেন। পেরুর রাজধানী লিমায় তার বেশ কয়েকটি চিনা পণ্যের দোকান ও রেস্তোরাঁ রয়েছে, দেশটির একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও তার অংশীদারিত্ব রয়েছে।

হেরি ইয়াংয়ের সঙ্গে প্রথম বৈঠকটি করেছিলেন ২৬ ডিসেম্বর লিমার এক চাইনিজ রেস্তোরাঁয়। এরপর ৬ জানুয়ারি চিনা পণ্যের দোকোনে তাদের মধ্যে আরেকটি বৈঠক হয়। এসব বৈঠেকের কোনোটি প্রেসিডেন্টের রেকর্ড বইয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

এসব বৈঠকের খবর ফাঁস হওয়ার পর এটি ‘চিফা-গেট’ কেলেঙ্কারি নাম পায়। এই নামটি আসে চিনা খাদ্য সংস্কৃতি প্রভাবিত পেরুর খাবারের নাম থেকে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে পেরুরি অ্যাটর্নি জেনারেল দপ্তর হেরির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে।

গত মাসে হেরি (৩৯) ওই বৈঠকগুলোর কথা স্বীকার করেন আর সেগুলো যেভাবে হয়েছিল তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অসদাচরণের কথা অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, ওই বৈঠকগুলো ‘পরিস্থিতিগত’ ছিল। ওই ব্যবসায়ী তাকে কোনো সুবিধা দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন, এমন অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।

নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট না হওয়ায় হেরিকে ক্ষমতা থেকে সরাতে অভিংশসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়নি। নিন্দা প্রস্তাব পাস হওয়াতেই কংগ্রেসের প্রধানের পদ থেকে অপসারিত হন হেরি আর এর ধারবাহিকতায় অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের পদ হারান।

বুধবার পেরুর কংগ্রেসে এক ভোটাভুটির মাধ্যমে পরবর্তী অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট বেছে নেওয়ার কথা আছে।

তথ্যসূত্র: বিইডনিউজ