মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬

হিজবুল্লাহর হামলার পর বৈরুতে আঘাত হেনেছে ইসরায়েল

সোনার দেশ ডেস্ক ০২ মার্চ ২০২৬ ১২:৪৭ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ০২ মার্চ ২০২৬ ১২:৪৭ অপরাহ্ন
হিজবুল্লাহর হামলার পর বৈরুতে আঘাত হেনেছে ইসরায়েল
একের পর এক হামলা চালাতে শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। ছবি: রয়টার্স

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে লেবাননের ইরান সমর্থিত রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এরপর লেবাননে হিজবুল্লাহর স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানতে শুরু করেছে ইসরায়েল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের লক্ষ্যস্থলগুলোতে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে। এই পরিস্থিতিতে এ সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সোমবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, তারা লেবানন থেকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বাধা দিয়ে ধ্বংস করেছে, তবে অন্যগুলো তাদের দেশের খোলা জায়গায় পড়ে বিস্ফোরিত হয়েছে।

রয়টার্স জানায়, এ দিন ইসরায়েল লেবাননের রাজধানী বৈরুতের হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত দক্ষিণাংশের শহরতলীগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে। লেবাননের রাজধানীতে এক ডজনেরও বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সময় ভোররাত ২টা ৪০ মিনিটের দিক থেকে একের পর এক হামলা চালাতে শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী।

এরপরই আক্রান্ত স্থানগুলোর ও আশপাশের বাসিন্দারা গাড়িতে করে ও হেঁটে বৈরুত থেকে পালাতে শুরু করে। এতে রাস্তায় রাস্তায় জ্যাম লেগে যায়।

ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা বৈরুতের কাছে হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের ওপরও হামলা চালিয়েছে।

গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল হিজবুল্লাহ। কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় লড়াই করার পর গোষ্ঠীটি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি হয়।

কিন্তু এখন হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলায় ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতিতে তেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে আর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

শনিবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট দপ্তর জানায়, দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাদের জানিয়েছিল যে লেবাননের দিক থেকে কোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ইসরায়েল লেবাননের বিরুদ্ধে উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে না।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, “যে কোনো ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য হিজবুল্লাহ পুরোপুরি দায়ী।”

তারা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের কয়েক ডজন গ্রামের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী রোববার রাতে জানিয়েছে, তাদের বিমান বাহিনী তেহরানের আকাশে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে আর একের পর এক বিমান হামলায় ইরানের গোয়েন্দা সংস্থা, নিরাপত্তা সংস্থা ও সামরিক কমান্ড সেন্টারগুলো গুড়িয়ে দিয়েছে।

রোববার রাতে ইসরায়েলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ডোন হামলার সতর্কতা জানিয়ে সাইরেন বেজেছে। এরপর ইরানের ছোড়া এক ঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র রাতের আকাশে আলোর ঝলক তুলে তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলের দিকে ছুটে যায়।

জেরুজালেমের কাছে এক মহাসড়কে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত তিন ইসরায়েলি আহত হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার আগে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার কোনো পরিকল্পনা করছিল, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে মার্কিন কংগ্রেসকে জানিয়েছে পেন্টাগন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

রয়টার্স জানায়, মার্কিন কংগ্রেসের রুদ্ধদ্বার এক ব্রিফিংয়ে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রক্সি বাহিনীগুলো মার্কিন স্বার্থের জন্য ‘আসন্ন হুমকি’ ছিল ঠিকই, কিন্তু তেহরান আগে থেকে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিল— এমন কোনো গোয়েন্দা তথ্য তাদের কাছে ছিল না। এই বিষয়ে অবগত দুজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে রয়টার্স এই খবরটি প্রকাশ করেছে।

পেন্টাগনের এই তথ্য ট্রাম্প প্রশাসনের আগের দাবির ওপর বড় ধরনের সন্দেহ তৈরি করেছে। এর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, তেহরান মার্কিন বাহিনীর ওপর ‘প্রতিরোধমূলক’ (প্রি-এমপ্টিভ) হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তাদের কাছে ইঙ্গিত ছিল। 

শনিবার ইরানের ওপর শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা। যৌথ এই হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে তেহরানসহ ইরানের বড় শহরগুলোতে। ইরানও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে; ফলে পশ্চিম এশিয়া জুড়ে তৈরি হয়েছে যুদ্ধের আবহ। 

আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার মৃত্যুর খবরে তেহরানে নেমে আসে শোকের ছায়া। বহু নারীকে দেখা যায় খামেনির ছবি হাতে রাস্তায় নামতে। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টসহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর দায়িত্ব রয়েছে।  

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ