সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

জ্বালানিবাহী আরও দুটি জাহাজ ‘৯ মার্চ আসছে’: মন্ত্রী

সোনার দেশ ডেস্ক ০৭ মার্চ ২০২৬ ০৯:৫২ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ০৭ মার্চ ২০২৬ ০৯:৫২ অপরাহ্ন
জ্বালানিবাহী আরও দুটি জাহাজ ‘৯ মার্চ আসছে’: মন্ত্রী
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, ‘৯ মার্চ’ আরও দুটি জ্বালানিবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছাবে।


শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে বৈঠকের পরে জ্বালানিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।


ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের ঘাটতি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় রাজধানীর পাম্পগুলোতে তেল কেনার হিড়িক পড়েছে। যানবাহনের লম্বা লাইন দেখা যায় পাম্পগুলোতে। এমন পরিস্থিতিতে তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দিয়েছে সরকার।


এছাড়া গ্যাস সংকটের কারণে চারটি সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রধামন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বেরিয়ে ৪ নম্বর গেইটে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সাংবাদিকদের বলেন, পরিস্থিতি নিয়ে সরকার প্রধানকে অবহিত করা হয়েছে এবং দেশে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার ‘কারণ নেই’।


মন্ত্রী বলেন, “তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নাই। আমরা রেশনিংটা করেছি এই জন্যই যে একটা অনিশ্চয়তা আছে, এই যুদ্ধটা কতদিন চলবে।”


তার ভাষায়, রেশনিং চালুর পর অনেক মানুষ আতঙ্কে তেল মজুত করার চেষ্টা করছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।


“মানুষ এই রেশনটাকে ভয় পেয়ে স্টক করা শুরু করেছে। আসলে আমাদের তেলের কোনো অভাব নাই।” তিনি বলেন, “আগামী নয় তারিখে আরও দুইটা ভেসেল আসছে। সুতরাং তেলের কোনো সমস্যা নাই।” সরকার নিয়মিতভাবে পেট্রোল পাম্পে তেল সরবরাহ করছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, বলেন টুকু


তিনি বলেন, “পেট্রোল পাম্পে আমরা তেল দিচ্ছি এবং চলবে এটা। এটার জন্য লাইন দিয়ে সারারাত জায়গার কোনো প্রয়োজন নাই।”


কোনো কোনো পাম্পে দ্রুত তেল শেষ হয়ে গেলে পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে তুলে ধরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, “এটা পাম্প ম্যানেজমেন্টের বিষয়। আমরা মনিটর করছি, যাতে এরকম কম হয়।”


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, বলেন তিনি।


মন্ত্রী বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ কতদিন চলবে তা অনিশ্চিত হওয়ায় সরকার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে।


“যুদ্ধ কবে থামবে আমরা জানি না। তাই আগে থেকে আমাদের ঘর ঠিক করতে হবে, সঞ্চয় রাখতে হবে।”


জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে কাতারের বাইরে বিকল্প ব্যবস্থাও খোঁজা হচ্ছে জানালেও তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি টুকু।


বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।


তিনি বলেন, “আগামী দিনগুলোতে যেন কোনো সংকট না ঘটে, সে কারণে আমরা বিকল্প উৎস থেকে কাজ করছি।”


দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সতর্ক থাকব, সবাই সচেতন থাকব।”


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ