মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬

ইরানে নিখোঁজ বিমান ক্রু উদ্ধারে কতটা ‘বিপদের’ মুখে পড়বে মার্কিন অভিযান?

সোনার দেশ ডেস্ক ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন
ইরানে নিখোঁজ বিমান ক্রু উদ্ধারে কতটা ‘বিপদের’ মুখে পড়বে মার্কিন অভিযান?
বামে নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজতে ইরানের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও হেলিকপ্টার, ডানে একটি বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ একজন ক্রু-কে খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উদ্ধার অভিযানকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ভয়াবহ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শত্রুতাপূর্ণ ভূখণ্ডের গভীরে পরিচালিত এ ধরনের কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (সিএসএআর) মিশন স্বভাবতই উচ্চঝুঁকিপূর্ণ।

বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অংশীদার সিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ভেতরে এখনও বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী।

একজন সাবেক প্যারারেসকিউ জাম্পার স্কোয়াড্রনের কমান্ডার জানিয়েছেন, এ ধরনের মিশনে অন্তত ২৪ জন প্যারারেসকিউ সদস্য ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে তল্লাশি চালাতে পারেন।

প্রয়োজনে তারা বিমান থেকে প্যারাশুটে নেমেও অভিযান পরিচালনা করতে প্রস্তুত থাকেন।

তিনি বলেন, মাটিতে নামার পর তাদের প্রথম লক্ষ্য থাকে নিখোঁজ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা। তাকে খুঁজে পাওয়ার পর চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া, শত্রুর নজর এড়িয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং চূড়ান্ত উদ্ধার নিশ্চিত করাই পরবর্তী ধাপ।

ইরানে এই উদ্ধার অভিযানের ঝুঁকি প্রসঙ্গে সাবেক ওই কমান্ডার বলেন, ‘ভয়াবহ ও অত্যন্ত বিপজ্জনক—এই শব্দগুলোও যথেষ্ট নয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অভিযানের জটিলতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে কয়েকটি অনিশ্চয়তা। নিখোঁজ ক্রু সদস্য আহত কিনা, তার কাছে থাকা রেসপন্ডার ডিভাইস ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা, পর্যাপ্ত পানি ও সরঞ্জাম আছে কিনা—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর নেই। একই সঙ্গে ইরানও তাকে খুঁজতে সক্রিয়ভাবে অভিযান চালাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও প্রতিকূল করে তুলেছে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র উপদেষ্টা এবং সাবেক মার্কিন নৌ কর্মকর্তা হারলান উলম্যান মনে করেন, দুটি যুদ্ধবিমান হারানোর ঘটনাকে সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে।

তার মতে, বিপুল সংখ্যক উড্ডয়নের তুলনায় ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম হলেও, শত্রু এলাকায় উদ্ধার অভিযান সবসময়ই বড় ঝুঁকির।

অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন মেরিন কোর স্পেশাল অপারেশনস সদস্য জনাথন হ্যাকেট জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিযানে উদ্ধারকারী দল সর্বশেষ অবস্থান থেকে অনুসন্ধান শুরু করে এবং সম্ভাব্য গতিপথ ধরে বিস্তৃত এলাকায় খোঁজ চালায়। কঠিন ভূখণ্ডে একজন মানুষ কত দ্রুত চলতে পারে—সেটিও হিসাব করা হয়।

তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে পূর্ব যোগাযোগের ভিত্তিতে সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনাও থাকে, যা ‘নন-স্ট্যান্ডার্ড অ্যাসিস্টেড রিকভারি মিশন’ হিসেবে পরিচিত।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (সিএসএআর) মিশন সাধারণ উদ্ধার অভিযানের মতো নয়।

এটি পরিচালিত হয় সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে, যেখানে হেলিকপ্টার, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং প্রয়োজন হলে আক্রমণাত্মক সহায়তাকারী বিমান একসঙ্গে কাজ করে। শত্রু ভূখণ্ডের গভীরে গিয়ে এমন অভিযান পরিচালনা করাই এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে, ইরানের ভেতরে নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারের এই মার্কিন অভিযানকে অত্যন্ত জটিল, অনিশ্চিত এবং উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত: নিখোঁজ পাইলট খুঁজে পেতে মরিয়া দুই দেশ

তথ্যসূত্র: বিবিসি ও আল-জাজিরা, বাংলানিউজ