শুক্রবার, মে ০১, ২০২৬

বাঘায় অধ্যক্ষের অবহেলায় এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত ৩৯ শিক্ষার্থীর

সোনার দেশ ডেস্ক ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
সোনার দেশ ডেস্ক ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৭ অপরাহ্ন
বাঘায় অধ্যক্ষের অবহেলায় এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত ৩৯ শিক্ষার্থীর

অধ্যক্ষের অবহেলায় রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কেশবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯ জনের এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের অর্থ নেওয়া হলেও তা পূরণ করেননি অধ্যক্ষ মো. কামারুজ্জামান।   


প্রসঙ্গত, আগামী ২৪ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী একযোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। পরীক্ষার মাত্র ১০দিন বাকি— এই সময়ে এসে শিক্ষার্থী ও অভিবাবকরা জানতে পেরেছেন ফরম পূরণ হয়নি ৩৯ জনের। শুধু তাই নয়, এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪ জনের নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশনও সম্পন্ন করেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ।   


শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কেশবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের মোট পরীক্ষার্থী ৪০ জন। এদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থীর ফরম পুরণ হয়েছে, পূরণ হয়নি ৩৯ জনের। এদের মধ্যে ৩৪ জনের ফরম পুরণ পর্যন্ত করেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। এমনকি নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনও (নিবন্ধন) করা হয়নি। আর বাকি চার জন অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণও হয়নি।  


জানতে চাইলে কেশবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. কামারুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “কাল ফরম পুরণ হয়ে যাবে।” পরীক্ষার্থীরা ফরম পূরণ থেকে কীভাবে বাদ পড়লো জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আসলে আমারও একটু ইয়ে হয়েছে, আর অফিস সহকারীকে দায়িত্ব দেওয়া ছিল, বার বার জিজ্ঞাসা করার পরও সে আমার কাছে অস্বীকার করে। আমাকে বলেছে বলে যে— হয়ে গেছে। আমি ঝামেলায় থাকার কারণে দেখতে পারিনি। গতকাল কলেজ পরিদর্শক এবং চেয়ারম্যান স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। কাল ফরমগুলো পূরণ করে জমা দিলেই রেজিস্ট্রশন ও ফরম পূরণ শেষ হয়ে যাবে।”   


রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রশন এবং ফরম পূরণের জন্য শিক্ষা বার্ডে তদবির করছেন। তবে সোমবার (১৩ এপ্রিল) পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নবম শ্রেণির নিবন্ধন এবং পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ হয়নি।   


রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের স্কুল পরিদর্শক মো. শামীম হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “অধ্যক্ষ গতকাল (সোমবার) এসেছিলেন, কিন্তু হার্ড কপি নিয়ে আসেননি। এখন শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ব্যবস্থা আমরা আগে করবো। তারপর অধ্যক্ষকে শো-কজ করা হবে, চেয়ারম্যান স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমাদের প্রথম দায়িত্ব এখন শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা।”   


উল্লেখ্য, এর আগেও অবৈধ সুবিধা নিয়ে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে একজন জুনিয়র শিক্ষকের পদোন্নতির জন্য শিক্ষক প্যাটার্ন জমা দিয়েছিলেন অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান। জুনিয়র শিক্ষকের পদোন্নতির পর পদবঞ্চিত সিনিয়র শিক্ষক মামলা করার পর জুনিয়র শিক্ষকের পদোন্নতি বাতিল হয়। অধ্যক্ষের এই তথ্য জালিয়াতি প্রমাণ হলেও তোকে শো-কজ করা হয়। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের ওই সময়ের মহাপরিচালকের কাছে মুচলেকা দিয়ে মাফ পান তিনি। এছাড়া বিভিন্ন সময় কলেজের শিক্ষকরাও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।


তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন