বাঘায় ১৫০ বছর ধরে হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা
রাজশাহীর বাঘায় এক প্রত্যন্ত গ্রামে ১৫০ বছর থেকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। এই মেলায় জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এক মিলনমেলায় একত্রিত করে, যা অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য প্রতিফলন।
তিনদিন ব্যাপি মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এই মেলায় প্রথম দিনে সকালে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বৈশাখী র্যালি, পান্তা ভাত পরিবেশন এবং শিশুদের বিভিন্ন খেলাধুলা হয়।
গ্রাম বাংলার চিরচেনা চিত্রে পান্তা ভাত, জিলাপির মিষ্টি স্বাদ আর লাঠিখেলার আকর্ষণে জমে উঠে এ মেলায়। উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের ছোট্ট পীরগাছা গ্রামে তিন দিনব্যাপী এক প্রাণবস্তু মেলার আয়োজন করা হয়। এ গ্রামে ১৫০ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। ছোট পরিসরে শুরু হওয়া এই মেলাটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেলা কমিটির সভাপতি সলেমান হোসেন বাদসা, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক নবাব আলী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নুরুজ্জামান, এজাহারুল হক টুলু, মাহাতাব আলী, সহকারী অধ্যাপক সোলাইমান হোসেন বাদশা, ইদ্রিস আলী, মুনসাদ হোসেন, আমিরুল হোসেন, সজিব আহমেদ প্রমুখ।
এ বিষয়ে মেলা কমিটির সভাপতি সলেমান হোসেন বাদশা বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও গ্রামের সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তিন দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মাধ্যমে গ্রামবাসী ও আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য আনন্দঘন পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।
মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক নবাব আলী বলেন, এই মেলাটি শুধু একটি উৎসব নয়, বরং এলাকার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মিলনমেলার প্রতীক। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা মানুষও গ্রামে ফিরে এসে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন, যা এই মেলার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
মেলায় অংশ নিতে পেরে খুশি ছোট ছোট শিশুরা। পান্তা ভাত খাওয়ার আনন্দে তাদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
এ বিষয়ে পীরগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন বলেন, ছোটবেলা থেকেই এই মেলার সঙ্গে তিনি পরিচিত এবং সময়ের সঙ্গে এর জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ দেখা যায়।
মেলার দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ। প্রধান আলোচক ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ফরিদ উদ্দিন খান। আলোচক ছিলেন লেখক ও সাংবাদিক আবুল কালাম মোহাম্মদ আজাদ। দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় লালন সংগীত।
তৃতীয় দিনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পালাগান। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিটিভির সিনিয়র সাংবাদিক মাহমুদুল হক সুজন।
উল্লেখ্য, পীরগাছা ও নওটিকা গ্রাম বাসির সম্মিলিত উদ্যোগে এই মেলার আয়োজন করা হয়, যা এখন গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল নিদর্শনে পরিণত হয়েছে।
ঐতিহ্য আর আনন্দের এই মিলনমেলা আবারও প্রমাণ করে, সময় বদলালেও বাঙালির শিকড় আজও মাটির সঙ্গে অটুটভাবে জড়িয়ে আছে।#