রাজশাহী চেম্বারের নির্বাচন আজ
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। এনিয়ে রাজশাহীর ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা গেছে উৎসাহ উদ্দিপনা। দীর্ঘ ছয় কমিটির পর নির্বাচন হচ্ছে। চেম্বার অব কমার্স ভবনে দেখা গেছে নির্বাচনী উৎসব।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে দুটি প্যানেল। নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ২ হাজার ৮৯৮ জন ব্যবসায়ী। এর আগে গেল ১৫ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের কারণে এই নির্বাচন পিছিয়ে যায়।
এবারে দুইটি প্যানেলে বিভক্ত হয়ে প্রতিদ্বান্দ্বপ্রার্থীরা নির্বাচনী বৈতরনী পার হবেন। প্যালেন দুইটি হলো-সম্মিলিত ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদ ও সম্মিলিত ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ। স্বতন্ত্র ভাবে সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন আব্দুল আওয়াল খান চৌধুরী জ্যোতি।
এরা হলেন, সম্মিলিত ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদের নেতৃত্বে আছেন রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মিজানুর রহমান খোকন। তিনি সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সিনিয়র সহসভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শামসুর রহমান শান্তন ও সহসভাপতি পদে একেএম সারওয়ার জাহান প্রিন্স প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই প্যানেলে ১৮ জন পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
সম্মিলিত ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের নেতৃত্বে আছেন চেম্বারের সাবেক সভাপতি হাসেন আলী। তিনি এবার সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন। এছাড়াও সিনিয়র সহসভাপতি পদে নির্বাচন করছেন শফিউল আলম বুলু ও সহসভাপতি আছেন জিয়াউদ্দিন জিয়া। এখানেও ১৮ জন পরিচালক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এর আগে গেল ডিসেম্বর মাসের ১ তারিখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। বৈধ প্রার্থীর চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয় গেল ৬ জানুয়ারি। প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করা হয় ৮ জানুয়ারি। এরপর ভোট স্থগিত করা হয়।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ দেশের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সংগঠন। বাণিজ্য, ট্রেড, শিল্প, কৃষি, সেবা- বিভিন্ন পেশাজীবী ও উদ্যোক্তা এই চেম্বারের সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। তবে গত এক দশক ধরে চেম্বারের উপর নেতৃত্ব সংকট তৈরি হয়েছিল।
২০১২ সালের পর টানা ছয়টি কমিটি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় কার্যকর নেতৃত্ব এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগে স্থবিরতা দেখা দেয় বলে অনেক ব্যবসায়ী মনে করছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিপ্রার্থীদের প্রত্যাশা এবারের নির্বাচনের মধ্যদিয়ে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির স্থবিরতা লাঘব হবে এবং ব্যবসায়ীরা তাদের মত প্রকাশের সুযোগ পাবে।
নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বোয়ালিয়া সহকারি কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন বলেন, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। শনিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রাজশাহী চেম্বারের ২ হাজার ৮৯৮ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটাররা তাদের সদস্য কার্ড নিয়ে এসে ভোট দেবেন। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা শুরু হবে। এরপর ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের অনুষ্ঠানের বিষয়ে কারও আপত্তি থাকলে তা তিনি রোববারে আবেদন করতে পারবেন। ২৪ তারিখের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করা হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশোধনী ফলাফল ঘোষণা করা হবে ২৪ তারিখে।