শুক্রবার, মে ০১, ২০২৬
চিকিৎসকদের অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ

মায়ের জানাজায় সেনা হেফাজতে বড় ছেলে, জামিন নিয়ে ছোট ছেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:২১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:২১ অপরাহ্ন
মায়ের জানাজায় সেনা হেফাজতে বড় ছেলে, জামিন নিয়ে ছোট ছেলে

মায়ের মৃত্যুর পর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করেছিলেন সেনাবাহিনীর ল্যান্স কর্পোরাল সোহেল আলী (২৯)। সঙ্গে ছিল ছোট ভাই জয় আলী (২৪)। কিন্তু ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে ‘হট্টগোলে’ জড়িয়ে যান তারা। মায়ের মরদেহ ট্রলি থেকে গেলেও তাদের নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। পরে আত্মীয়রা এসে  মরদেহ নিয়ে যান।


এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জুলিয়ারা বেগম (৫০) নামের ওই নারীর মৃত্যু হয়। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ধর্মহাটা গ্রামে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বেলা সোয়া তিনটায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। 


এই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগ এনেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রাতেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলার পর সেনা সদস্য সোহেল আলীকে সেনাবাহিনী নিয়ে যায়।  আর ছোট ভাই জয় আলীকে আদালতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে জামিন নিয়ে এসে মায়ের জানাজায় আসে। আর বড় ছেলেকে জানাজায় নিয়ে আসে সেনাবাহিনী। তিনি সেনাবাহিনীর হেফাজতে আছেন। 


জয় আলী বলেন, তিনি সকাল ১১টার দিকে আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসে মায়ের জানাজায় উপস্থিত হয়েছেন। বড় ভাইকে সেনা হেফাজতে জানাজায় নিয়ে আসা হয়। জানাজা শেষে সেনাবাহিনী আবার তাকে নিয়ে চলে যায়।


জয় আলী বলেন, তার মায়ের শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকলে তিনি ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডেস্কে বসা নার্সদের ডাকতে যান। তখন তারা বলেছেন যে স্যার ছাড়া কিছু করতে পারবেন না। ইন্টার্ন চিকিৎসকেরাও তাদের কথা শোনেননি। 


জয় দাবি করেন, অবহেলাজনিত কারণেই তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে, এ কথা বলতে গেলে যারা তার ভাইয়ের ওপর হামলা করেছেন তাদের তার নার্স, ডাক্তার বলে মনে হয়নি। মনে হয়েছে তারা সন্ত্রাসী। হাসপাতালে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা না থাকলে তারা তার ভাইকে মেরে ফেলত।


পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে জুলিয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়েছে। এ কথা বলতে গিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে তাঁরা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। সোহেল আলী মুঠোফোন নিয়ে ভিডিও করতে গেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা এসে সোহেল আলীকে মারধর করেন। এতে সোহেলের মুখে জখম হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল। এরপর রাত ৩টার দিকে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার এস এম মোশাররফ হোসেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।


মামলার এজাহারে বলা হয়, মায়ের মৃত্যুর পর আসামিরা চিকিৎসায় অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক তানিয়া আক্তার ও শিবলীর সরকারি কাজে বাধা দিয়ে আক্রমণাত্মক এবং মারমুখী হয়ে কথা-কাটাকাটিসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদর্শন করতে থাকেন। পরে পরিচালকের নির্দেশে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জেনে থানায় এসে বাদী এজাহার দায়ের করেন। বিবাদী সোহেল আলী ইন্টার্ন চিকিৎসক ও উপস্থিত লোকজনের কাছে আটকের সময় সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ আছে।


এদিকে মামলার এজাহারে চিকিৎসক তানিয়া আক্তার ও  শিবলীর সঙ্গে মারমুখী আচরণ করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। শিবলী বলেন, তিনি ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে ওই সময় ছিলেন না। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের একই রকম একটা বিষয় তিনি ফেস করেছেন।


রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, শিবলী ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে তখন ছিলেন কি না, এটা তিনি বলতে পারবেন না। তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। এই অবস্থায় বুধবার সকাল নয়টায় ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা একটি সংবাদ সম্মেলন করে তাদের কথা বলবেন।