নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ৪৩৮২ কর্মীর চাকরি বহাল রাখার দাবি
নগর এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পরিচালিত আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি (ইউপিএইচসিএসডিপি) প্রকল্পের আওতাধীন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে প্রকল্পে কর্মরত হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে এই প্রকল্পের অধীনে ৯৮৭ জন মাতৃসদনকর্মী ও ৩ হাজার ৩৯৫ জন স্বাস্থ্যকেন্দ্রকর্মীসহ মোট ৪ হাজার ৩৮২ জন চিকিৎসক, নার্স, প্যারামেডিক ও টেকনিশিয়ান কর্মরত রয়েছেন। প্রকল্প পরিবর্তন হলেও তাঁদের চাকরি বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও চেয়েছেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে পরিচালিত এ প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমানে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন ও ২১টি পৌরসভার প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় গড়ে তোলা ৩০টি নগর মাতৃসদন (সিআরএইচসিসি) এবং ১৬২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র (পিএইচসিসি) থেকে প্রসব–পূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা, সাধারণ ডেলিভারি, সিজারিয়ান অপারেশন, শিশুস্বাস্থ্য ও টিকাদানসহ নানা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ৩৪ লাখ ৬০ হাজার প্রসব–পূর্ব এবং ১০ লাখ প্রসব-পরবর্তী সেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ১ লাখ ৯০ হাজার শিশুর নিরাপদ জন্ম নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রায় ৯৯ লাখ ২০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় প্রায় ৭০ লাখ মানুষকে টিকা প্রদান করে এ প্রকল্পের জনবল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এছাড়া, প্রায় ৬৬ লাখ কিশোর-কিশোরীকে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ শিশুকে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পটির বিল্ডিং স্পেশালিস্ট শেখ শাহরিয়ার বলেন, “স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯’ এবং ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯’ অনুযায়ী শহরবাসীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার দায়িত্ব স্থানীয় সরকারের ওপর ন্যস্ত। অতীতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ও এ সেবা স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে পরিচালনার বিষয়ে একমত হয়েছিল।”
তিনি আরো বলেন,“ বর্তমানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চললেও ৪ হাজার ৩৮২ জন কর্মীর স্থায়ীকরণ বা চাকরি বহাল রাখার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। এতে প্রকল্পের পিএমইউ, পিআইইউ ও মাঠপর্যায়ের কর্মীরা চরম অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন।”
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি