নিকাহনামার জন্য তিন বছর থেকে ঘুরছেন মেয়ের বাবা!
নওগাঁর রাণীনগরে মেয়ের বিয়ের নিকাহনামা নেওয়ার জন্য প্রায় তিন বছর থেকে ঘুরছেন এক বাবা। উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের কাজী বেলাল হোসাইন নিকাহনামা দিচ্ছেন না। এর পেছনে ঘুরছেন এক ভুক্তভোগী মেয়ের বাবা রহিদুল ইসলাম।
জানা যায়, উপজেলার বড়গাছা ইউনিয়নের গহেলাপুর গ্রামের বড়িয়াপাড়ার নাজিম উদ্দিনের ছেলে কাজী বেলাল হোসাইন ওরফে মুন্সি মূলত কাশিমপুর ইউনিয়নের বিয়ে রেজিস্ট্রার (কাজী)। তিনি নিউজ ইউনিয়ন বাদে বছরের পর বছর অর্থের বিনিময়ে সে জেলা-উপজেলা বাল্যবিয়ে দিয়ে আসছেন। শুধু তাই নয় অবৈধ বিয়ের যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন তিনি।
কাজী বেলাল ও তার ভাই, ছেলে ও ভাগ্নেসহ অন্যদের কাছে অবৈধ বিয়ে রেজিস্ট্রির ভুয়া বই সংরক্ষণ করে। যখন যে এলাকায় যেভাবে বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে হয় তখন সেই এলাকা বুঝে জনবল সরবরাহ করে কাজী বেলাল এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।
উপজেলার বড়গাছা ইউনিয়নের গহেলাপুর গ্রামের অটোভ্যান চালক রহিদুল ইসলাম জানান তিনি প্রায় তিনবছর আগে তার মেয়ের দেন। মেয়ের বয়স ১৮ বছর হতে এক মাস বাকি ছিলো। কিন্তু গরীব মানুষ হওয়ায় গোপনে কাজী বেলালের সহযোগিতা নিয়ে মেয়ের বিয়ে দেন। সেই বিয়ের রেজিস্ট্রি কার্যক্রম সম্পন্ন করেন একই গ্রামের কাজী বেলাল হোসাইন।
বিয়ের পর থেকে বিয়ের নিকাহনামা নেওয়ার জন্য রহিদুল ইসলাম কাজী বেলালের পেছনে ঘুরছেন। আজ দিবে কাল দিবে বলে প্রায় তিনবছর থেকে কাজী বেলাল দিন পার করে আসছে। কাজী বেলাল যে পরিমাণ টাকা চেয়েছে সেই টাকাও দিতে চেয়েও রহস্যজনকভাবে বিয়ের কাগজ দিচ্ছে না।
এদিকে মেয়ের সংসারে প্রতিনিয়তই অশান্তি চলছে। কখন যে মেয়ের সংসার ভেঙে যাবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই দেনমোহরের বিষয়ে ছেলে পক্ষ যেন কোন মিথ্যে তথ্য দিয়ে আদালতের আশ্রয় নিতে না পারে সেই জন্য বিয়ের নিকাহনামা খুবই প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে প্রায় তিনবছর থেকে কাজী বেলালের পেছনে ঘুরছেন তিনি। সম্প্রতি এই বিষয়ে রহিদুল ইসলামের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর কাজী বেলালের ভাই রহিদুল ইসলামকে মেয়ের আইডি কার্ড দিতে বলেছে।
এই বিষয়ে কাজী বেলাল হোসাইনের মুঠোফোনে ফোন দিলে রিসিভ করা করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এক ইউনিয়নের কাজী আরেক ইউনিয়নে গিয়ে কিভাবে অবৈধ বাল্য বিয়ে রেজিস্ট্রির কাজ করার কোন বৈধ্যতা আছে কিনা সেই বিষয়ে উপজেলা ম্যারেজ রেজিস্ট্রার ও কাজী সমিতির সভাপতি এটিএম রেজাউল ইসলাম বলেন, একজন কাজীর পায়ের শিকল হচ্ছে তার নিজ এলাকা। আর কাজী বেলাল হোসাইন ২০১২ সালে আ.লীগের সাবেক এমপি ইসরাফিল আলমকে ম্যানেজ করে অন্য এলাকার বাসিন্দা হয়েও নিজেকে অবৈধভাবে কাশিমপুর ইউনিয়নের কাজী বানিয়ে নেয়। এরপর থেকে কাজী বেলাল অর্থের বিনিময়ে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে এখন পর্যন্ত অবৈধ কাজ করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, এই বিষয়ে বহুবার জেলা ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় অভিযোগ করেও কোন লাভ হয়নি। একাধিকবার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত ভাবে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। তবে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে কাজী বেলালের দৌরাত্ম বন্ধ করা খুবই জরুরী। তা না হলে তার দ্বারা সাধারণ মানুষ প্রতারিত হতেই থাকবে আর সংসারেও অশান্তি সৃষ্টি অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান জানান, কাজী বেলাল হোসাইনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। এছাড়া এই বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানান এই কর্মকর্তা।