রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

আকাশে ভাসমান বিষাক্ত মেঘকে ধ্বংস করেছিল আগ্নেয়গিরির প্রবল অগ্ন্যুৎপাত! কী ভাবে?

সোনার দেশ ডেস্ক ১৮ মে ২০২৬ ০২:০৪ অপরাহ্ন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সোনার দেশ ডেস্ক ১৮ মে ২০২৬ ০২:০৪ অপরাহ্ন
আকাশে ভাসমান বিষাক্ত মেঘকে ধ্বংস করেছিল আগ্নেয়গিরির প্রবল অগ্ন্যুৎপাত! কী ভাবে?
প্রশান্ত মহাসাগরে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত নিয়ে গবেষণা চলছে। -প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতকে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বিধ্বংসী প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলির মধ্যে অন্যতম বলে দাবি করেন কেউ কেউ। অগ্ন্যুৎপাতের প্রবল অভিঘাতে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়। ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠে যায় আকাশের দিকে। কখনও কখনও সেই ধোঁয়া বিষাক্ত মেঘ হয়ে ভাসতে থাকে। আবার, আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ ঠেলে বেরিয়ে আসা ম্যাগমা বা উত্তপ্ত গলিত শিলা ভাসিয়ে নিয়ে যায় আশপাশের সব কিছু। এ হেন আগ্নেয়গিরিকে নিয়ে বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের শেষ নেই। কারণ, তাতেই লুকিয়ে রয়েছে পৃথিবীর নিবিড়তম, গভীরতম রহস্যের আভাস।

সম্প্রতি আগ্নেয়গিরি নিয়ে একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা নতুন কিছু তথ্যের হদিস পেয়েছেন। তাঁরা জানতে পেরেছেন, আগ্নেয়গিরি থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত মেঘের বিষ ধ্বংস করার ওষুধও লুকিয়ে রয়েছে সেই আগ্নেয়গিরির মধ্যেই! প্রকৃতি যেমন বিষ তৈরি করে, তেমন প্রাকৃতিক উপায়ে সেই গরল পানও করতে পারে! প্রলয়ঙ্কর আগ্নেয়গিরির এই ‘গুণ’ নিয়ে আলোচনা চলছে বিস্তর।

২০২২ সালে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের টোঙ্গা দ্বীপের কাছে সমুদ্রে নিমজ্জিত আগ্নেয়গিরি হুঙ্গা টোঙ্গা-হুঙ্গা হাপাইতে প্রবল বিস্ফোরণ হয়েছিল। কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা ছবি এবং প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে সেই অগ্ন্যুৎপাতে ফরম্যালডিহাইডের উপস্থিতি টের পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আগ্নেয়গিরি থেকে যে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত মিথেন নির্গত হয়, তা ধ্বংস করার অন্যতম কারিগর এই ফরম্যালডিহাইড। ছাইয়ের মেঘে বিষক্ষয়ের সূত্র মিলেছিল সেই হদিস থেকে। নেদারল্যান্ডসের সংগঠন অ্যাকাসিয়া ইমপ্যাক্ট ইনোভেশন বিভি-র বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছেন। নেতৃত্বে ছিলেন বায়ুমণ্ডল সংক্রান্ত গবেষক মার্টেন ভান হারপেন। তাঁদের গবেষণাটি ‘নেচার কমিউনিকেশন্‌স’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। হারপেন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় যে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস নির্গত হয়, তা সকলেই জানেন। তাতে বায়ু দূষিত হয়। তবে এটা আমাদের জানা ছিল না যে, আগ্নেয়গিরির ছাইও সেই দূষণ রোধে সক্ষম।’’

মিথেন একটি ক্ষতিকর গ্রিন হাউস গ্যাস। প্রাকৃতিক ভাবেই বায়ুমণ্ডলে তা উপস্থিত থাকে। একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত মিথেন পৃথিবীতে প্রয়োজন। তা এই গ্রহের তাপমাত্রাকে জীবনধারণের উপযোগী করে রাখে। তবে অতিরিক্ত মিথেনে ঘটতে পারে বিপর্যয়। এই গ্যাস তাপকে আটকে রেখে পৃথিবীর উষ্ণতা ক্রমে বাড়িয়ে তোলে। ত্বরান্বিত হয় বিশ্ব উষ্ণায়ন। তাই দীর্ঘ দিন ধরেই মিথেনের মোকাবিলার নিত্যনতুন উপায় খুঁজে চলেছেন বিজ্ঞানীরা। আগ্নেয়গিরির মধ্যে সেই হদিস মেলায় তাঁদের কৌতূহল বেড়ে গিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন