যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-ওয়ান ড্রোন গুলি করে নামানোর দাবি আইআরজিসির
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) রোববার এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-ওয়ান ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক এজেন্সির বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে গাল্ফ নিউজ।
ইরানি বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রোনটি শত্রুতামূলক অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্যে ইরানের জলসীমার আকাশে প্রবেশ করেছিল, কিন্তু এটিকে দ্রুত শনাক্ত করে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নামিয়ে আনা হয়।
মার্কিন কোম্পানি জেনারেল অ্যাটোমিক্সের তৈরি দূর নিয়ন্ত্রিত এমকিউ-ওয়ান ড্রোন ‘প্রেডিটর’ (শিকারী) নামেও পরিচিত। আকাশ থেকে নজরদারি ও লক্ষ্যস্থলে অভিযান চালাতে মার্কিন বিমান বাহিনী ও দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ সাধারণত এ ড্রোনটি ব্যবহার করে। এমকিউ-ওয়ান এজিএম-১১৪ হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে।
শনিবার ইরানের সেনাবাহিনী এক ঘোষণায় জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো শনিবার ভোরে কেশম দ্বীপের আকাশে শত্রুর একটি অরবিটার ড্রোনকে সফলভাবে বাধা দিয়ে ধ্বংস করেছে।
এক বিবৃতিতে ইরানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দপ্তর জানায়, অরবিটার ড্রোনটি ‘আক্রমণকারী মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুদের’। কেশম অঞ্চলে ড্রোনটিকে শনাক্ত করার পর সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা পদ্ধতি সেটিকে ধ্বংস করে।
এর আগে মঙ্গলবার আইআরজিসি জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব দেওয়ার ‘বৈধ ও সুনির্দিষ্ট’ অধিকার তাদের আছে।
ওই সময় তারা আরও জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী গুলি করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন নামিয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসি ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা শত্রুর একটি যুদ্ধবিমানের উদ্দেশ্যেও গুলি ছোড়ার দাবি করেছে।
ইরানে তারা একটি ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এমনটি জানানোর পর আইআরজিসি ওই দাবিটি জানায়।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধ শুরু হয় তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় পুরো পশ্চিম এশিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল ও প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। পাশাপাশি ইরাক ও লেবাননে হিজবুল্লাহর মতো ইরানের ছায়া বাহিনীগুলো ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যস্থল ও ইসরায়েলে হামলা শুরু করে।
যুদ্ধের প্রায় শুরু থেকেই ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহের এ জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ধাক্কা লাগে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়ে মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে।
ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রাখার প্রতিক্রিয়ায় ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে মার্কিন বাহিনী। এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নিয়ে হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
৭ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই এখনও অব্যাহত আছে। যুদ্ধ অবসানে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা একটি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে এসে কিছু বিষয়ে অবস্থানগত পার্থক্যের কারণে আটকে আছে।
অনেকে চলতি সপ্তাহের শেষে একটি চুক্তি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে যুক্তরাষ্ট্র ফের ইরানে হামলা শুরু করবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ