সুইডেনকে গোলবন্যায় ভাসাল নেদারল্যান্ডস
শুরুটা করেছিলেন ব্রায়ান ব্রবি, শেষটা করলেন ক্রাইসেনসিও সামারভিল। মাঝখানে কোডি গাকপোর জোড়া গোল।
সব মিলিয়ে হিউস্টনে দাপুটে এক রাত কাটাল নেদারল্যান্ডস।
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এফ’র ম্যাচে সুইডেনকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে নেদারল্যান্ডস।
ডাচদের হয়ে জোড়া গোল করেন ব্রবি ও গাকপো। আরেকটি গোল করেন সামারভিল।
সুইডেনের একমাত্র গোলটি অ্যান্থনি এলাঙ্গার।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল নেদারল্যান্ডস।
মাত্র পঞ্চম মিনিটে এগিয়ে যায় তারা। দারুণ এক আক্রমণের শুরু ও শেষ দুটোতেই ছিলেন ব্রবি। তার ধরে রাখা বল থেকে তিজানি রেইনডার্স পাস দেন গাকপোকে। বাম দিক থেকে গাকপোর বাড়ানো বলে গোল করেন ব্রবি।
এক মিনিট পরই সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল সুইডেন। আলেকসান্দার ইসাকের পাস থেকে ভিক্টর ইয়োকেরেশের নিচু শট দারুণভাবে ঠেকান নেদারল্যান্ডস গোলরক্ষক বার্ট ফেরব্রুগেন।
১৪ মিনিটে আবারও ডাচ আক্রমণ। ডান দিক থেকে ডেনজেল ডামফ্রিসের ক্রস বিপজ্জনক ছিল। এরপর ১৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোল পায় নেদারল্যান্ডস। ডামফ্রিসের ক্রস থেকে স্লাইড করে বল জালে পাঠান ব্রবি। বিশ্বকাপের মূল পর্বে এটি ছিল নেদারল্যান্ডসের ১০০তম গোল।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে সুইডেন। ৩০ মিনিটে তাদের বড় সুযোগ আসে। বাম দিক থেকে ইয়োকেরেশের ক্রসে বল পান ইয়াসিন আইয়ারি। তবে প্রথমবারে হেড না করে বল নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে সুযোগ হারান তিনি।
৩৭ মিনিটে আবার ইয়োকেরেশকে আটকে দেন ফেরব্রুগেন। ৪৫ মিনিটে নিগ্রেনের ফ্রি-কিক থেকে হেডে বল জালে পাঠান গুস্তাফ লাগেরবিয়েলকে। তবে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। যোগ করা সময়েও ইয়োকেরেশের ফ্রি-কিক ও আইয়ারির নিচু শট ঠেকিয়ে দেন ফেরব্রুগেন। বিরতিতে নেদারল্যান্ডস এগিয়ে ছিল ২-০ গোলে।
দ্বিতীয়ার্ধের আগে ডনিয়েল মালেনের জায়গায় সামারভিলকে নামায় নেদারল্যান্ডস। নামার পরই প্রভাব রাখেন তিনি। ৪৭ মিনিটে তার পাস থেকে ডামফ্রিস ক্রস করেন, সেই বল থেকে গোল করেন গাকপো। ব্যবধান হয় ৩-০।
৫৪ মিনিটে আবারও ভয়ংকর গতিতে আক্রমণে যায় ডাচরা। সামারভিল পাস দেন গাকপোকে। কাছের পোস্টে ডান পায়ের জোরালো শটে গোল করেন লিভারপুল ফরোয়ার্ড। ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস।
এরপর তিন পরিবর্তন আনে সুইডেন। মাঠে নামেন বেসফোর্ট জেনেলি, লুকাস বের্গভাল ও অ্যান্থনি এলাঙ্গা। বদলি নামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান কমান এলাঙ্গা। ৫৯ মিনিটে ইসাকের থ্রু পাস ধরে বাম পায়ের শটে ফেরব্রুগেনকে পরাস্ত করেন তিনি।
তবে সেই গোল সুইডেনকে ম্যাচে ফেরাতে পারেনি। নেদারল্যান্ডস তখনও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। ৬০ মিনিটে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং ও রেইনডার্সকে তুলে টেউন কপমেইনার্স ও গুস টিলকে নামায় ডাচরা। ৭২ মিনিটে জোড়া গোল করা ব্রবির জায়গায় নামেন মেমফিস ডিপাই।
শেষ দিকে সুইডেন কিছু সুযোগ তৈরি করে। ৮৫ মিনিটে ইসাকের শট ঠেকান ফেরব্রুগেন। কর্নারের পর জেনেলির শটও সরাসরি ধরে ফেলেন ডাচ গোলরক্ষক।
৮৯ মিনিটে পঞ্চম গোল পায় নেদারল্যান্ডস। ডিপাইয়ের পাস থেকে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় নিচু শটে বল জালে পাঠান সামারভিল। এতে জয় আরও বড় হয় ডাচদের।
যোগ করা সময়ে গাকপোর জায়গায় নোয়া ল্যাংকে নামায় নেদারল্যান্ডস। শেষ মুহূর্তে মাথায় আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন সামারভিল। শেষ কয়েক সেকেন্ড ১০ জন নিয়ে খেললেও তাতে ম্যাচের ফল বদলায়নি।
শুরুতে ব্রবির জোড়া গোল, মাঝপথে গাকপোর দাপট আর শেষে সামারভিলের ফিনিশিংয়ে বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে নেদারল্যান্ডস। অন্যদিকে শেষ দিকে কিছু সুযোগ পেলেও শুরুতে পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা আর সামলাতে পারেনি সুইডেন।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ