মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬

শিবির নেতা হত্যা: অভিযুক্ত যুবদল নেতার বাড়িতে আগুন, আটক ১

সোনার দেশ ডেস্ক ২২ জুন ২০২৬ ১২:২৭ অপরাহ্ন রাজনীতি
সোনার দেশ ডেস্ক ২২ জুন ২০২৬ ১২:২৭ অপরাহ্ন
শিবির নেতা হত্যা: অভিযুক্ত যুবদল নেতার বাড়িতে আগুন, আটক ১

গাইবান্ধার সাঘাটায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবদল নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছেন বিক্ষুব্ধ মানুষ। এছাড়া, হত্যাকাণ্ডের পরই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদল কর্মী আশরাফ নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

সোমবার  (২২ জুন) রাত ২টার দিকে অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও আসামি আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাঘাটা থানার ওসি (তদন্ত) পবিত্র কুমার।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের অভিযুক্ত যুবদল নেতা মোকলেছুর রহমান মুকুল ও তার ভাই পলাশের বাড়িতে রাত ৮টার দিকে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

অভিযুক্ত মুকুল ও পলাশ আপন দুই ভাই। তারা একই গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। মুকুল বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক। 

সাঘাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ তোফাজ্জাল হোসেন বলেন, “২২ সদস্যের একটি টিম আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।” 

সাঘাটা ওসি (তদন্ত) পবিত্র কুমার বলেন, “হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আশরাফ নামে এক যুবদল কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতকদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে, খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে গাইবান্ধা জেলা ইসলামী ছাত্রশিবির। রাত ১০টার দিকে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে গাইবান্ধা জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের ট্রাফিক মোড়ে এসে সমবেত হন তারা। এ সময় জামায়াত নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।  

সোমবার (২২ জুন) সকাল ১১টায় গাইবান্ধা ট্রাফিক মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে ইসলামী ছাত্র শিবির গাইবান্ধা জেলা শাখার নেতারা।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতীয় সংসদে অধিবেশন পরবর্তী সময়ে সংসদ চত্বরেই সংবাদ সম্মেলন করেছেন গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ। সেখানে ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। 

একই ঘটনায় গভীর শোক, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তা দিয়েছেন গাইবান্ধা-২ সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম। অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও উদ্বেগজনক ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

যুবদল নেতা বহিষ্কার: 

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাতেই গাইবান্ধা জেলা যুবদলের সভাপতি রাকিব হাসান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ভুট্রো স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোকলেছুর রহমান মুকুলকে দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

রোববার (২১ জুন) বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়া বাজারের (উপজেলার দক্ষিণ গেটে) চারমাথা মোড়ে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের নেতা মুকুলের সঙ্গে সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিনের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মুকুল, তার ভাই পলাশ, আশরাফ ও রবিউলকে সাথে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাইফুল্লাহর গলা ও ঘারে আঘাত করেন।  এসময় সাইফুল্লাহ বারীকে রক্ষা করতে সালাউদ্দিন এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করেন মুকুল ও তার সঙ্গীরা বলে অভিযোগ উঠেছে। 

স্থানীয়রা গুরুতর আহত সাইফুল্লাহকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সালাউদ্দিনকে স্থানীয়রা প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নিহত সাইফুল্লাহ বারী সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি এবং শিমুলতাইড় গ্রামের জামে মসজিদের  মুয়াজ্জিন হাবিবুর রহমানের ছেলে। আহত সালাউদ্দিন একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী।

তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি