শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

বাম্পার ফলনেও স্বস্তি নেই, শ্রমিক সংকটে বিপাকে পাটচাষি

সজিবুল হৃদয়, লালপুর ২৭ জুলাই ২০২৬ ১২:১৯ অপরাহ্ন কৃষি
সজিবুল হৃদয়, লালপুর ২৭ জুলাই ২০২৬ ১২:১৯ অপরাহ্ন
বাম্পার ফলনেও স্বস্তি নেই, শ্রমিক সংকটে বিপাকে পাটচাষি

অনুকূল আবহাওয়া ও উন্নত বীজের কারণে এ বছর নাটোরের লালপুর উপজেলায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু সেই আনন্দে ভাটা ফেলেছে শ্রমিক সংকট। সময়মতো শ্রমিক না পাওয়ায় অনেক কৃষক পাট কাটতে পারছেন না। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত পরিপক্ব হয়ে মাঠেই দাঁড়িয়ে আছে পাট। এতে আঁশের মান কমে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা।


উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি মৌসুমে  ৮ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় ফলনও আশাব্যঞ্জক হয়েছে। পাটচাষিরা বলছেন, প্রতি বিঘায় ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বাজারে ভালো মানের পাট প্রতি মণ ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


আড়বাব ইউনিয়নের পাটচাষি আব্দুল্লাহ ও সুমন হোসেন বলেন, দিনমজুরের মজুরি বাড়িয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক দিন দেরি হলেই আঁশের মান কমে যাবে। সময়মতো পাট কাটতে না পারলে পাটের ভালো মূল্য পাওয়া যাবে না, তখন বাম্পার ফলনেরও কোনো মূল্য থাকবে না।


দুড়দুড়িয়া গ্রামের পাটচাষি শহিদুল ইসলাম ও ইউনুস আলী বলেন, জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি আছে। কিন্তু শ্রমিকের অভাবে পাট কাটাই যাচ্ছে না। কাটতে দেরি হলে লাভের বদলে লোকসান গুনতে হবে। আগে মৌসুমে সহজেই শ্রমিক পাওয়া যেত। এখন অনেকেই কৃষিকাজ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। তাই শ্রমিকের সংকট দিন দিন বাড়ছে।


স্থানীয় পাট ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান বলেন, বাজারে পাটের দাম সন্তোষজনক। তবে ভালো দাম পেতে হলে আঁশের মান ঠিক রাখতে হবে। সে জন্য সময়মতো পাট কেটে জাগ দেওয়া জরুরি।


লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার বলেন, এ বছর উপজেলায় পাটের ফলন খুব ভালো হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকটের বিষয়টি আমরা লক্ষ্য করছি। কৃষকদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত পাট কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।