জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ
কোটা সংস্কারের আন্দোলন থেকে তীব্র গণঅভ্যুত্থানে রূপ পাওয়া জুলাই বদলে দিয়েছে এই ভূখণ্ডের ইতিহাস। শুরুতে চাকরিপ্রত্যাশীদের এ আন্দোলন ছিল অহিংস। কিন্তু জুলাইয়ের ১৫ তারিখ থেকে তা সহিংস হয়ে উঠতে থাকে। এর ২০ দিনের মাথায় রাষ্ট্রীয় বাহিনী আর সরকারদলীয়দের নৃশংসতায় বিপুল প্রাণ আর রক্তের বোঝা মাথায় নিয়ে পতন হয় শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের।
শিক্ষার্থীদের ঘোষণা ছিল, রক্তিম এ জুলাইতেই হাসিনার পতন নিশ্চিত করবে তারা। যে কারণে ৩১ জুলাইয়ের পর থেকে নতুনভাবে তারিখ গণনা শুরু করতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। সে হিসেবে পতন নিশ্চিত হওয়ার পর ফ্যাসিস্ট হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট ছিল ‘৩৬ জুলাই’।
১৪ জুলাই আন্দোলনের গতিপথ বদলে দেওয়া হাসিনার সেই আলোচিত সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। ১৩ জুলাই সব গ্রেডে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। পদযাত্রা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দিয়ে আন্দোলনকারীরা জাতীয় সংসদে জরুরি অধিবেশন ডেকে সরকারি চাকরির সব গ্রেডের কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন।
এর মধ্যে ওই দিন সন্ধ্যায় গণভবনে চিন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরা না পেলে, তাহলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে? তার বক্তব্যের এই অংশটুকু ক্ষুব্ধ করে তোলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের। এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সেদিনই রাতে ঢাকা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। এদিন রাজধানীর টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে মধ্যরাতে শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী নানা স্লোগান দেন। সেখানে নারী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। জমায়েতে শিক্ষার্থীরা ‘চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’, ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার; কে বলেছে, কে বলেছে, স্বৈরাচার স্বৈরাচার’সহ নানা স্লোগান দেন।
রাতে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে বের হতে শুরু করলে হলগুলোর ফটকে অবস্থান নেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কয়েকটি হলের ফটকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের আটকে রাখেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী টিএসসিতে আসেন।
এমন পরিস্থিতিতে ভোরে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ঘোষণা দেন, প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন থেকে আসা বক্তব্য সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে প্রত্যাহার না করলে তারা আন্দোলনে নামবেন। এরপর থেকে শুরু তৎকালীন সরকারের গুন্ডাবাহিনীর সহিংসা।
মাঠে নামে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি। হেলমেট বাহিনী আন্দোলনকারীদের পেটায়, আইন প্রয়োগকারী বাহিনী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হামলাকারীদের সুরক্ষা দেয়। তারপর তারাও যুদ্ধ ঘোষণা করে আন্দোলনকারীদের ওপর। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। জনসম্পৃক্তি বেড়ে যাওয়ার একপর্যায়ে এটি প্রচণ্ড গণবিদ্রোহে রূপ নেয়। ৩৬ জুলাই হাসিনা সরকারের পতন হয়।