পাবনায় এক-দুই ঘণ্টা পরপরই চলছে লোডশেডিং, অতিষ্ট সাধারণ মানুষ
উত্তরের জেলা পাবনায় একদিকে প্রচণ্ড গরম অন্যদিকে লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এক থেকে দুই ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং এ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। শহর থেকে গ্রাম একই চিত্র। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বিদ্যুৎ অফিসে বারবার বলেও কোনো সুরাহা মিলছে না।
আর লোডশেডিং মারাত্বক হওয়ার কারণে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে নাজেহাল ও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারীরা। জেলার ঈশ্বরদীতে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে বিদ্যুৎ সমিতির এক মিটার রিডারকে আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি আলহাজ্ব মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অবরুদ্ধ মিটার রিডারের নাম আইনুল হোসেন। তিনি পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ দাশুড়িয়া জোনাল অফিসে কর্মরত।
চরগড়গড়ি গ্রামের বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন জানান, বেশ কিছুদিন যাবৎ অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন তারা। তাদের দৈনন্দিন কাজকর্মসহ জীবনযাপনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এরমধ্যে আবার ভূতুড়ে বিলের কারণে অনেককেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সবকিছু মিলিয়ে বিদ্যুতের লোকজনের ওপর সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ।
ইউপি সদস্য রুপবান খাতুন জানান, মঙ্গলবার চরগড়গড়ি এলাকায় মিটারের রিডিং লিখতে যান আইনুল হোসেন। এসময় ওই এলাকায় লোডশেডিং চলছিল। প্রচণ্ড গরমে নাজেহাল মানুষজন আইনুল হোসেনকে দেখে নানা প্রশ্ন করতে থাকেন। এসময় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আটকে রেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোন দেন। প্রায় ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তাকে ছেড়ে দেয় এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে মিটার রিডার আইনুল হোসেন বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু বিষয়টি শুধু এই গ্রাম কেন্দ্রীক নয়, এটা জাতীয় সমস্যা। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে বিল লেখা বন্ধ রেখে চলে আসি।
পাবনা শহরের পাওয়ার হাউজপাড়া মহল্লার বাসিন্দা নাজমা রহমান বলেন, বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রচন্ড গরমে শরীর ঘামছে প্রচুর। ঘরে ফিরে শান্তিতে বসা যাচ্ছে না লোডেশডিং এর কারণে। এক দুই ঘন্টা পরপরই বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করছে। ছোট বাচ্চা আর বয়স্ক মানুষরা খুব কষ্ট পাচ্ছেন। বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল আমিন চৌধুরী বলেন, আমাদের চাহিদা তো প্রতি ঘন্টা ঘন্টায় পরিবর্তন হয়। বুধবার দুপুরে আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৭৯ মেগাওয়াট, পেয়েছি ৫৬ মেগাওয়াট। আমরা যে বিদ্যুৎ পাই সেইটা সমহারে বন্টন করে কাভার করার চেষ্টা করছি। কখনও এক ঘণ্টা বা কখনও দুই ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, এটি জাতীয় সমস্যা, সারাদেশে একই চিত্র। গ্যাস সংকট, বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। আজকেও ঢাকাতে এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের একটি জরুরী মিটিং হয়েছে। আশা করছি কিছুদিনের মধ্যে লোডশেডিং কমে যাবে।
পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার আহমদ শাহ আল জাবের জানান, বুধবার আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা ৯১ মেগাওয়াট, পাওয়া যাচ্ছে ৫৯ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ৩২ মেগাওয়াট। যেহেতু সারাদেশে একই অবস্থা, সেকারণে সবাইকে ধৈর্য্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার আহবান জানান তিনি।