শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

দুর্গাপুরে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ

দুর্গাপুর প্রতিনিধি ১২ আগস্ট ২০২৬ ১১:০৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
দুর্গাপুর প্রতিনিধি ১২ আগস্ট ২০২৬ ১১:০৯ অপরাহ্ন
দুর্গাপুরে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ

রাজশাহীর দুর্গাপুরে তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে বলে অভিযোগ করেছেন দুর্গাপুরবাসী। এতে উপজেলার শিল্প-কলকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অফিসের কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এদিকে বর্ষাকালে প্রর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় দেখা মেলেনি কাঙ্খিত পানি। ফলে গভীর নলকূপ থেকে সেচের মাধ্যমে আউশ ধান রোপেন নামে চাষিরা। আর এতে মরার উপরে খাড়ার ঘাঁ হয়ে দাড়িয়েছে বিদ্যুত। বর্তমানের বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংএ অনেক ফসলের মাঠ পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। এছাড়াও প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষও পড়ছেন চরম দুর্ভোগে।


দুর্গাপুর বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,  উপজেলায় প্রতিদিন গড়ে ১৮ থেকে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। অথচ বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেক কম থাকায় তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে।


এদিকে দুর্গাপুর বাজার এলাকায় তুলনামূলকভাবে কিছুটা বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি ভয়াবহ। দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।


দুর্গাপুর পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের কৃষক গোপীনাথ সরকার বলেন, ‘বিদ্যুতের এত বেশি লোডশেডিং যে ধানক্ষেতে ঠিকমতো পানি দিতে পারছি না। পানির অভাবে জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ধানক্ষেত আগাছায় ভরে গেছে। পানির অভাবে ধানের গাছগুলোও মরার উপক্রম হতে বসেছে। আমাদের গ্রামের একটি গভীর নলকূপের আওতায় শত শত বিঘা জমির একই অবস্থা।’


হোজা গ্রামের রুবেল হক বলেন, ‘বিদ্যুৎ যায় না মাঝে মধ্যে আসে। যার ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে লোডশেডিং। বাচ্চারা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। আমার দুটি পানবরজ রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় সেখানেও ঠিকমতো সেচ দিতে পারছি না।’


কয়েকজন ফটোকপি দোকানদার জানান, ‘বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে দোকানের কম্পিউটারের বিভিন্ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ফটোকপি, ছবি তোলা ও অনলাইনের বিভিন্ন কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে দোকান খুলেও বসে থাকতে হয়।’


বহরমপুর গ্রামের গভীর নলকূপ অপারেটর তোজু বলেন, ‘আমার ডিপের আওতায় অন্তত শতাধিক বিঘা ফসলি জমি রয়েছে। বর্তমানে কৃষকরা আউশ ধান রোপণে ব্যস্ত। এ সময়ে ২৪ ঘণ্টাই জমিতে পানি সরবরাহের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমতো ডিপ চালাতে পারছি না। ফলে কৃষকরা সময়মতো ধান রোপণ করতে পারছেন না। এতে আউশ ধান চাষ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।’ 


হোজা গ্রামের অটোচালক আহাদ আলী বলেন, ‘দিন-রাতে মিলিয়ে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছি। একটি অটো পুরোপুরি চার্জ দিতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু ঠিকমতো বিদ্যুৎ না থাকায় অটোতে পর্যাপ্ত চার্জ দিতে পারছি না। ফলে নিয়মিত গাড়ি নিয়ে বের হতে পারছি না, ভাড়াও মারতে পারছি না। এতে পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।’


দুর্গাপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের (ডিজিএম) মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। এ কারণেই লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। সরকার বিদ্যুৎ সংকট নিরশনে কাজ করছে। আশা করছি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ হবে।’