শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

বড়শি ফেলেও মাছের দেখা নেই, শিকারিদের অভিযোগের পর সমঝোতা

মোহনপুর প্রতিনিধি ১৪ আগস্ট ২০২৬ ১১:০০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
মোহনপুর প্রতিনিধি ১৪ আগস্ট ২০২৬ ১১:০০ অপরাহ্ন
বড়শি ফেলেও মাছের দেখা নেই, শিকারিদের অভিযোগের পর সমঝোতা

রাজশাহীর মোহনপুরে টিকিট কেটে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার আয়োজনকে ঘিরে শৌখিন মাছশিকারিদের মধ্যে উৎসাহ দেখা গেলেও কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আয়োজকদের সঙ্গে তাঁদের সমঝোতা করতে হয়েছে। পরে ১৮ হাজার টাকা মূল্যের টিকিটের মধ্যে ৪ হাজার টাকা রেখে ১৪ হাজার টাকা করে ফেরত দেওয়া হয়।


শুক্রবার (১৪ আগস্ট) উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের মুগরইল এলাকার একটি পুকুরে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ মাছ ধরার আয়োজন চলে। এতে রাজশাহী, ঢাকা, গাজীপুর, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শৌখিন মাছশিকারিরা অংশ নেন।


আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাছ ধরার জন্য পুকুরে ২১টি আসন রাখা হয়। এসব আসনে প্রায় ৮০ জন মাছশিকারি অংশ নেন। প্রতিটি আসনের টিকিটের মূল্য ছিল ১৮ হাজার টাকা। লটারির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের আসন নির্ধারণ করা হয়।


সরেজমিনে দেখা যায়, পুকুরের চারপাশে বসে বড়শি দিয়ে মাছ ধরছেন শৌখিন মাছশিকারিরা। কেউ টোপ প্রস্তুত করছেন, কেউ ছিপ ফেলেছেন পানিতে। বড় কোনো মাছ বড়শিতে আটকা পড়লে আশপাশের শিকারিদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। মাছ ধরা দেখতে পুকুরপাড়ে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ।


গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে পাঁচজনের একটি দল নিয়ে মাছ ধরতে আসেন ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে মাছ ধরতে পেরে ভালো লেগেছে। তাঁর দলের সদস্যরা ১ কেজি ৪০০ গ্রাম থেকে ৫-৭ কেজি ওজনের বিভিন্ন মাছ পেয়েছেন। তিনি নিজেও ৩ থেকে ৪ কেজি ওজনের রুই, কাতলা ও মৃগেলসহ কয়েকটি মাছ ধরেছেন।


দেলোয়ার হোসেন বলেন, এর আগে তিনি বিভিন্ন জায়গায় মাছ ধরেছেন। তবে আবহাওয়ার কারণে এদিন মাছ কিছুটা কম ধরা পড়েছে। তারপরও আয়োজনের পরিবেশ তাঁর ভালো লেগেছে।


বায়া এলাকা থেকে আসা শৌখিন মাছশিকারি আজিম উদ্দিন বলেন, তাঁর ভাতিজা টিকিট কেটে তাঁকে মাছ ধরতে নিয়ে এসেছেন। বিভিন্ন জায়গায় মাছ ধরার আয়োজন হলে তিনি অংশ নেন। এ আয়োজনের ব্যবস্থাপনাও তাঁর ভালো লেগেছে। তবে মাছ বড়শিতে না আসায় কাঙ্ক্ষিত মাছ ধরতে না পেরে তিনি হতাশ হয়েছেন।


চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা এক মাছশিকারি অভিযোগ করেন, পুকুরে আগে থেকেই প্রচুর খাবার থাকায় মাছের পেট ভরা ছিল। এ ছাড়া সার প্রয়োগের কারণে মাছের মুখ লাল হয়ে আছে বলেও তিনি দাবি করেন। সকাল থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বসেও তিনি কোনো মাছ পাননি। এ কারণে পুকুরমালিক তাঁর দেওয়া কথা রাখেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।


তবে কাকনহাট থেকে আসা মাছশিকারি ও পুকুরমালিক রনি বলেন, পুকুরের ট্রিটমেন্ট ও পরিচর্যার ব্যবস্থায় সমস্যা থাকায় মাছ বড়শিতে আসছিল না। এ জন্য আয়োজকদের কোনো দোষ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।


পুকুরের মালিক বেলু বলেন, বিভিন্ন এলাকার মাছশিকারিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবারই প্রথম টিকিটের মাধ্যমে মাছ ধরার আয়োজন করেছেন। প্রায় তিন বিঘা আয়তনের পুকুরটিতে রুই, কাতলা, মৃগেল, পরিমনি, কালবাউশ, পাঙ্গাস, ব্রিগেড ও সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে। সর্বোচ্চ প্রায় ১২ কেজি ওজনের মাছও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, আয়োজনে অংশ নেওয়া অনেক শিকারি বড় মাছ পেয়েছেন।


আয়োজকেরা জানান, মাছ ধরার সময় নির্দিষ্ট ধরনের বড়শি ও টোপ ব্যবহার করতে হয়েছে। কোনো ধরনের মিষ্টি চার বা রাসায়নিক ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিল। পুকুরমালিকের পক্ষ থেকে মাছের খাবার সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।


তবে মাছ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন মাছশিকারি আয়োজকদের কাছে অভিযোগ করেন। পরে শিকারি ও আয়োজকদের মধ্যে সমঝোতা বৈঠক হয়। বৈঠকে ২০টি আসন থেকে একজন করে প্রতিনিধি অংশ নেন। আলোচনার পর টিকিটের ১৮ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা রেখে বাকি ১৪ হাজার টাকা করে অংশগ্রহণকারীদের ফেরত দেওয়া হয়। এতে পরিস্থিতি শান্ত হয়।


আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮ হাজার টাকার টিকিটের বাইরে একজন মাছশিকারির আনুষঙ্গিক খরচ হিসেবে আরও প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। কোনো কোনো আসনের মালিক ভাড়া করে শিকারি নিয়ে আসেন। এ ক্ষেত্রে ভাড়াটে শিকারিকে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা দিতে হয়।


আয়োজকেরা বলেন, কেউ শখের বশে, আবার কেউ বিভিন্ন এলাকার মাছ ধরার আয়োজনের অভিজ্ঞতা নিতে এখানে এসেছেন। দীর্ঘদিন পর মুগরইল এলাকায় এ ধরনের আয়োজন হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।