বেশি দাম ও সংকট: ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকরা
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ডিলারের গুদামের দরজা ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে গেছেন কৃষকরা। সারের কৃত্রিম সংকট এবং অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে এসব সার নিয়ে যান কৃষকরা। রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরের দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়িন্ত্রণে আনে। তবে নিয়ে যাওয়া সারের অধিকাংশই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিলখুড়ি ইউনিয়নের বিসিআইসির অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজে সার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় চার জন পুলিশ সদস্যসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ ক্ষুব্ধ কৃষকরা ডিলারের গুদামের টিনের বেড়া ভেঙে ইউরিয়া সারগুলো নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে ক্ষুব্ধ কৃষকদের অনেকে সারের বস্তা ফেরত দিয়ে যান। তবে বিকাল পর্যন্ত সব বস্তা সার ফেরত পাননি ডিলার।
ডিলারের গুদামে সার নিতে গিয়ে খালি হাতে ফেরত যাওয়া কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, কয়েকদিন ধরে সারের জন্য ঘুরতেছি। সার পাওয়া যাচ্ছে না। ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ সারের অর্ধেক খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেয় ডিলার। এতে কৃষকরা চাহিদামতো সার পায় না। যে সারের বস্তার দাম ১ হাজার ৩০০ টাকা, ব্যবসায়ীরা সেই সারের বস্তা ১ হাজার ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করে। সার না পাওয়ায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি করেন কৃষকরা।
মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুল বলেন, ‘দুপুরে সার বিতরণের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি এসে আমাকে অবরুদ্ধ করেন। ডিলার গুদামের বেড়া ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া ও এমওপি সার নিয়ে যান কৃষকরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করতে বেগ পেতে হচ্ছিল।’ সার লুটপাটের ঘটনায় মামলা করা হবে বলে জানান এই ডিলার।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৯৭ বস্তা সার লুটের ঘটনা ঘটেছে। সার সংকট এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ সঠিক নয়। যে ইউনিয়নে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে সারের কোনও সংকট নেই। লুট হওয়া সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’
তবে কৃষি কর্মকর্তার দাবির বিপরীত চিত্র উঠে এসেছে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে। রবিবার সার লুটের ঘটনার পর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ। অভিযানে কৃষক ছাড়া খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সার বিক্রি নিয়ে কৃষকদের অভিযোগের সত্যতা পান তিনি। এমন অভিযোগে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের পাগলাহাট এলাকায় এক ডিলারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ইউএনও বলেন, ‘আমরা অভিযানে বের হয়েছি। কৃষকদের অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে ডিলার পয়েন্ট এবং খুচরা বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার বিতরণকালে ১৯৭ বস্তা সার লুটের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সব কৃষক সার পাবে না এমন আশঙ্কায় সার নিতে আসা ব্যক্তিরা লুটপাট চালিয়ে সারের বস্তা নিয়ে যায়। বিকাল পর্যন্ত লুট হওয়া সারের ৫৮ বস্তা ফেরত পাওয়া গেছে। লুট হওয়া সার ফেরত পাওয়া না গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন