খাসকামরায় নিয়ে গাড়ির চালককে ঘুষি মারার অভিযোগ বিচারকের বিরুদ্ধে
খাসকামরায় ডেকে নিয়ে নিজ গাড়ির চালককে ঘুষি মেরে আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক বিচারকের বিরুদ্ধে। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সোহেল রানার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন তাঁর গাড়িচালক মো. আলী হোসেন বাচ্চু। রোববার সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি।
গাড়িচালক আলী হোসেন বাচ্চু সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আজ সকালে বাচ্চুকে খাসকামরায় ডেকে নিয়ে চোখে ঘুষি ও কানের ওপর থাপ্পড় মারেন বিচারক সোহেল রানা।
গাড়িচালক বাচ্চুর ভাষ্য, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিচারকের পিয়ন ফোন করে তাঁকে খাসকামরায় ডেকে নেন। তিনি সঙ্গে গাড়ির লগবই নিয়ে যান। লগবইয়ে তাঁর ডিউটি শুরু সকাল ৭টার সময় লেখা ছিল। ৭টা লেখার কারণ জানতে চান বিচারক।
বাচ্চু তখন বলেন, ‘স্যার, আপনি ৮টার সময় গাড়িতে ওঠেন। ৭টার সময় যদি গাড়ি না পৌঁছায়, তাহলে গাড়ি ধোয়া-মোছা ও পরিষ্কার করব কীভাবে?’
ভুক্তভোগী বাচ্চু জানান, এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে বিচারক তাঁর চোখের ওপর ঘুষি মারেন এবং কানের ওপর থাপ্পড় দেন। পরে বিচারকের পিয়ন তাঁর হাত ধরে টেনে সরিয়ে দেন।
এ সময় তাঁকে গালিগালাজও করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাচ্চু। পরে তিনি ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
ভুক্তভোগী গাড়িচালক বাচ্চুর দাবি, তাঁর ভুল হলে বা অন্যায় হলে বিচারক প্রয়োজনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারতেন, কিন্তু তাঁকে এভাবে মারার অধিকার কারও নেই।
সে সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায়বিচার দাবি করেন তিনি। এদিকে বিচারক বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাননি।
তবে ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা ইশতিয়াক হোসেন জনি বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে বাচ্চু বিচারকের গাড়ি পরিষ্কার করছিলেন না। এ বিষয়ে জানতে তাঁকে খাসকামরায় ডেকে পাঠানো হয়। বাচ্চু গাড়ি পরিষ্কার করতে পারবেন না বলে জানালে বিচারক তাঁকে ধমক দিয়ে বের করে দেন।
মারধরের বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবি করেন ইশতিয়াক হোসেন।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা অনলাইন