চব্বিশ ফাইনাল যুদ্ধ নয়, রিহার্সাল: জামায়াত আমির
চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ফাইনাল যুদ্ধ নয়, বরং যুদ্ধের রিহার্সাল বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয়, তাদের কসরত করতে হয়, রিহার্সাল দিতে হয়। তারা যেন চব্বিশকে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে, এটা ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সাল।
রোববার রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘ফ্যাসিবাদের দোসরেরা’ ন্যারেটিভ নির্মাণে নেমে পড়েছে। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চব্বিশে যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মারা যায়নি, তারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তাঁরা মনে করেছিলেন, ‘ফ্যাসিবাদের ময়লা-আবর্জনা’ পরিষ্কার হয়ে যাবে, কিন্তু সেটি পরিষ্কার না হয়ে ‘আবর্জনার কলেবর’ আরও বাড়ছে।
শফিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় যারা আসে, এসেই বলে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, সবাই ইতিহাস বিকৃতির নায়ক ছিল, এই অপকর্ম থেকে কেউ বের হতে পারেনি।
জুলাই জাদুঘর থেকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরিয়ে ফেলার অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাতির দুঃখের ঘটনাগুলো এখানে তুলে ধরা হয়েছিল। বিশেষ একটি দেশ ও রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য এর অনেক উপাদান এখান থেকে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। এখানে ১৯৪৬ বা ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে অনেক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের যাঁরা পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তাঁদের তুলে ধরা হয়েছিল। এর অনেক কিছু এখন গায়েব করে ফেলা হয়েছে। নির্বাচিত সরকারের হাতে যখন এসেছে, তখন অনেক নির্যাতিত মানুষের স্মৃতিচিহ্ন ও ছবিও সেখানে ছিল। একটি নির্দিষ্ট দলের লোকদের স্মৃতি রেখে অন্যগুলো গায়েব করে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান।
বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার যে রাস্তায় হেঁটেছে, বর্তমান সরকার সেই রাস্তা ধরে হাঁটছে।
সরকারের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই রাস্তা পরিবর্তন করতে হবে। এই রাস্তা ফ্যাসিবাদের রাস্তা, এই রাস্তা আয়নাঘরের রাস্তা, এই রাস্তা অসংখ্য মানুষকে বিনা বিচারে খুন করার রাস্তা, এই রাস্তা শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামার ওপর আয়নার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ার রাস্তা। বাংলাদেশের মানুষ এই রাস্তায় কাউকে চলতে দেবে না, সুতরাং, বিরত থাকুন।’
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও পাসপোর্টের অবস্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে একটা জাতির সম্মানের মানদণ্ড হচ্ছে তার পাসপোর্ট। বাংলাদেশের অবস্থান সেই তালিকায় হতাশাজনক। শুধু সবুজ পাসপোর্টে নয়, লাল পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম দেখতে পাননি তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেই ভুক্তভোগী।’
জাতীয় সিরাত উদ্যাপন কমিটি আয়োজিত এই সেমিনারে আরও বক্তৃতা করেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রমুখ।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা অনলাইন