রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

রাজশাহীর বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের সংকট

সোনার দেশ ২৩ আগস্ট ২০২৬ ১১:১৭ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ২৩ আগস্ট ২০২৬ ১১:১৭ অপরাহ্ন
রাজশাহীর বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের সংকট

প্রাথমিক শিক্ষার স্বার্থে দূর করা উচিত


রাজশাহীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের সংকট গভীর আকার ধারণ করেছে। জেলার ১ হাজার ৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৮৯টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। অধিকাংশ বিদ্যালয়ই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ওপর নির্ভরশীল। এ অবস্থা প্রশাসনিক কাজ, পাঠদান তদারকি এবং সামগ্রিক শিক্ষার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ নিয়ে গত ২০ আগস্ট সোনার দেশ পত্রিকায় ‘ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে রাজশাহীর অর্ধেকের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এই শিরোনামে প্রধান প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে উল্লেখ্য আছে যে, রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের চলতি বছরের জুন পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১ হাজার ৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ১ হাজার ৫৭টি। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৬৮ জন। অর্থাৎ ৫৮৯টি পদই শূন্য। ফলে জেলার মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৬ শতাংশের বেশি চলছে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই। এসব বিদ্যালয়ের অনেকগুলোতেই সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।


অবসর, পদোন্নতি, বদলি, নতুন নিয়োগ না হওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক দায়িত্ব ও শ্রেণিকক্ষে পড়ানোর চাপ সামলাতে হচ্ছে সহকারী শিক্ষকদেরকে। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম ধীরগতির হয়ে পড়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি তৈরি করে। এই স্তরে শুধু পাঠদান নয়, বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিচালনা, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিক্ষক-অভিভাবকের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে এতগুলো বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকা উদ্বেগের বিষয়। বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব শক্তিশালী না হলে শিক্ষার কাক্সিক্ষত মান অর্জন কঠিন হবে। তাই প্রাথমিক শিক্ষার স্বার্থে প্রধান শিক্ষক সংকট দূর করা উচিত। উক্ত বিদ্যালয়গুলোতে দ্রুত শূন্য পদ পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এমনটাই আমরা দেখতে চাই। যেখানে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে, সেখানে তা দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। নতুন নিয়োগের প্রয়োজন হলে সেটাও দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনাকাক্সিক্ষত বিলম্ব কাম্য নয়।